রাজধানীর লেকগুলো দূষণমুক্ত রাখতে ১ হাজার ২৬৯টি ভবনকে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ভবনগুলোতে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও পয়ঃশোধনাগার (এসটিপি) নির্মাণ করতে হবে। নোটিশ পাওয়া ভবনগুলোর তালিকা সংশ্লিষ্ট আবাসিক সোসাইটিগুলোকে সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বুধবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত কারিগরি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় রাজধানীর লেকগুলোর বিদ্যমান দূষণ পরিস্থিতি, দূষণের উৎস শনাক্তকরণ, পানির গুণগত মান উন্নয়ন এবং বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় জানানো হয়, যেসব ভবনের অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল নির্মাণের সংস্থান রয়েছে, সেসব ভবনের মালিকদের আগামী ১৫ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না করলে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েলের কাঠামোগত নকশা রাজউক থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এ-সংসংক্রান্ত আবেদন পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে রাজউককে তা নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়। লেকগুলোর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন ও মো. সারোয়ার আলম এবং রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রফিকুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কে এম মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান সুমন, বারিধারা সোসাইটির সভাপতি সাকিফ এ তাবানী ও সাধারণ সম্পাদক এ টি এম মতিন, বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া দিলন এবং নিকেতন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী আরিফসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।