৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রা করেন কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ কর্মচারী।

বেলা ১১টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা যমুনার দিকে অগ্রসর হন। এসময় আন্দোলনরত কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না করে তাদের সাথে অবিচার করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের সাফ বার্তা—আজকের মধ্যেই দাবি পূরণ না হলে তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা এই সমাবেশে অংশ নেন। তাদের দাবি, মূল্যস্ফীতির বাজারে বর্তমান বেতনে জীবন ধারণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তাই পে-কমিশনের সুপারিশ দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে আগেই জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সম্প্রতি এক বৈঠকে জানিয়েছেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা ও পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি যাচাই করছে।

উল্লেখ্য, পে-কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারবে।

Facebook Comments Box