শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২০ ইং, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২০ ইং

গোসাইরহাটে প্রেমের টানে ঘরছাড়া স্কুলছাত্রীর অকাল মৃত্যু

গোসাইরহাটে প্রেমের টানে ঘরছাড়া স্কুলছাত্রীর অকাল মৃত্যু
গোসাইরহাটে প্রেমের টানে ঘরছাড়া স্কুলছাত্রীর অকাল মৃত্যু

শরীয়তপুরের উপজেলার গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী তাবিয়া এবং নবম শ্রেনীর ছাত্র আল আমিন। পাঁচ মাস আগে প্রেমের টানে গোপনে বিয়ে করে দু’জন। পরে দু’পক্ষের পরিবার জানতে এ বিয়ে মেনে নিতে রাজি হয়নি। পরিবারের অমতে আল আমিন তাবিয়াকে বাড়ি নিয়ে আসে। এর ৫ মাসের মাথায় অকাল মৃত্যু হয় তাবিয়ার। তাবিয়ার পরিবারের অভিযোগ শ^শুড় বাড়ির লোকজন বিশ খাইয়ে তাবিয়াকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তারা গোসাইরহাট থানায় অভিযোগ করেছেন। গতকাল (মঙ্গলবার ২৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে পালং মডেল থানা পুলিশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে তাবিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গোসাইরহাট উপজেলার মহেশ^রপট্টি গ্রামের মোকলেছ তপাদারের ছেলে আল আমিন তপাদার (১৭) ও একই গ্রামের সিরাজুল ইসলাম মাদবরের মেয়ে তাবিয়া (১৫) উপজেলা শহরের ইদিলপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। গত বছর তাবিয়া অষ্টম শ্রেনী ও আল আমিন নবম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের টানে তারা দু’জন এক উকিলের মাধ্যমে বয়স এফিডেভিট করে গোপনে বিয়ে করে। বিয়ের ১৫ দিন পর জানাজানানি হলে দু’পক্ষের পরিবারই এ বিয়ে মেনে নিতে রাজি হয়নি। এর সপ্তাহ খানেক পর তাবিয়া তার পরিবারের কাউকে না জানিয়ে আল আমিনের সাথে শ^শুড় বাড়ি চলে যায়। এরপর তাবিয়ার সাথে তার পরিবারের কোন যোগাযোগ ছিলো না বা তাবিয়াও তার বাপের বাড়ি আর যায়নি। শ^শুড় বাড়ি থেকেই তাবিয়া অষ্টম শ্রেনীর জেএসসি পরীক্ষা দেয় এবং পরীক্ষায় পাশ করে। পরবর্তীতে তাবিয়া আর স্কুলে না গেলেও আল আমিন এ বছর দশম শ্রেনীর ছাত্র হিসেবে ক্লাশ চালিয়ে গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) বেলা পৌনে ১১ টার সময় স্বামী আল আমিনসহ পবিারের লোকজন তাবিয়াকে গুরুতর অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ তাবিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন এবং তাবিয়ার স্বামী আল আমিন ও শ^াশুড়িকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পড়ে ছেড়ে দেন।
তাবিয়ার বাবা সিরাজুল ইসলাম মাদবর বলেন, সকাল ৮টার দিকে আল আমিন আমাকে ফোন দিয়ে বলে তাবিয়া বিশ খেয়েছে, তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পর আবার ফোন দিয়ে বলে তাবিয়া মারা গেছে। আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য স্বামী ও শ^শুড় বাড়ির লোকজন বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করেছে আমরা সে খবর পেয়েছি। তারা কৌশলে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আমি মামলা দায়ের করবো।
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, মেয়ের পরিবার অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।