দূর্ণীতিবাজ মুহতামিম মাওলানা আশেক এলাহিকে প্রত্যাহারের মাধ্যমে কাউয়াদি জামিয়া রশিদিয়া কারিমিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠণ করা হয়। গত ১৪ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় অত্র মাদ্রাসার মুতাওয়াল্লি আবুল খায়ের এস. এম. মতিউর রহমানকে সভাপতি, নাজমুল হাসান (আতিক)কে সাধারণ সম্পাদক, হাজী মোহাম্মদ আলী মাদবর সহ-সভাপতি, আব্দুস সাত্তার সিকদারকে সহ-সাধারণ সম্পাদক, মোঃ বাচ্চু হাওলাদারকে কোষাধ্যক্ষ, এবং মোঃ মাহমুদুল হাসান, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মাদবর, মো: দেলোয়ার মোল্লা, মো: আব্দুস সামাদ মাদবর, মো: আব্বাস আলী মাদবর, মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লা, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ঢালী, মো: মতিউর রহমান মাদবর ও মো: আবদুস সালাম মাদবরকে সদস্য করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিটি গঠন করা হয়।
এ কমিটি ঘোষণার পর কাউয়াদি জামিয়া রশিদিয়া কারিমিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার সভাপতি এস. এম. মতিউর রহমান তার বক্তব্য ও সাধারণ সম্পাদক নাজমূল হাসান আতিকের মাধ্যমে জানা যায়, তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠণ ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছে, কোথাও দূর্ণীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেইনি। কাউয়াদি জামিয়া রশিদিয়া কারিমিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কোনও দূর্ণীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় তারা দিবে না। এরপর তারা কাউয়াদি জামিয়া রশিদিয়া কারিমিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার পূর্বে দায়িত্বকালীন মুহতামিম মাওলনা আশেক এলাহী সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, মাদ্রাসার মুতাওয়াল্লি ও কমিটিকে উপেক্ষা করে ২০০৭ সাল থেকে মাওলানা আশেক এলাহী মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছিলো। কিন্তু ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাদ্রাসার হিসাব সঠিক থাকলেও ২০১৬ সালের পর থেকে মাদ্রাসা পরিচালনা করাকালীন সময় কোনধরনের সঠিক হিসাব মুতাওয়াল্লি ও কমিটির নিকট দেয়নি মাওলানা আশেক এলাহী। এরপর ২০১৯ সালে নতুন কমিটি গঠণের পর ২০১৮ সালের একবছরের হিসাব চাওয়া হয় মাওলানা আশেক এলাহীর নিকট। ঐ হিসাবে মাওলানা আশেক এলাহীর নিকট অত্র মাদ্রাসা ২’লক্ষ ছিয়াশি হাজার ৪২৮ টাকা পাওয়ানা হয়। এছাড়া কাউয়াদি জামিয়া রশিদিয়া কারিমিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার বিভিন্ন আসবাবপত্র ও বিভিন্ন খাতের টাকা দূর্ণীতি করে নিয়ে কাওয়াদি ফরকানিয়া মাদ্রাসা নামে পুরাতন একটি মাদ্রাসা পরিচালনা শুরু করে মাওলানা আশেক এলাহী। সে বিষয়ে মুতাওয়াল্লি ও কমিটির লোকজন জাজিরা থানা ও জাজিরা ইউএনও বরাবর একটি অভিযোগ পেশ করে। অভিযোগের আলোকে ইউএনও এস. এম. আশরাফুজ্জামান ভূইঁয়া উক্ত বিষয়টি ২:১ এর আলোকে সমাধান করে দেন। অর্থাৎ কাউয়াদি জামিয়া রশিদিয়া কারিমিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা পাবে আসবাবপত্রের তিনভাগের দুইভাগ।
এ বিষয়ে মাওলানা আশেক এলাহীকে মোবাইল ফোন করে পাওয়া যায়নি।
পরে এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. আশরাফুজ্জামান ভূইঁয়াকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, কাউয়াদি জামিয়া রশিদিয়া কারিমিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার একটি অভিযোগ আমার নিকট আসে। অভিযোগের আলোকে দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের জন্য বসি। পরে মাদ্রাসার আসবাবপত্র দুই মাদ্রাসার মধ্যে ২:১ আকারে ভাগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করি।

মন্তব্য করুন