শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং

জাজিরায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর স্কুল শিক্ষকের লাশ উদ্ধার

জাজিরায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর স্কুল শিক্ষকের লাশ উদ্ধার

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের পশ্চিম রায়ের কান্দি গ্রাম থেকে রুবিনা আক্তার (৩৪) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে একটি বাঁশ বাগান থেকে ওই নারীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার বড় মূলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন রুবিনা। মূলনা ইউনিয়নের পশ্চিম রায়ের কান্দি গ্রামের হাসান মুন্সীর মেয়ে। গত শুক্রবার হতে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ তাকে হত্যা করে লাশ বাঁশ বাগানে ফেলে রাখা হয়েছে।
জাজিরা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, জাজিরার পশ্চিম রায়ের কান্দি গ্রামের মৃত হাসান মুন্সির মেয়ে রুবিনা আক্তার ২০১০ সালে নিয়োগ পেয়ে বড় মূলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এক বছর আগে পাশের পূর্ব রায়ের কান্দি গ্রামের ইতালি প্রবাসি আক্তার মল্লিকের সাথে মুঠোফোনে তার বিয়ে হয়। আগামী জানুয়ারীতে স্বামী দেশে ফিরে তাকে তাদের বাড়িতে নেয়ার কথা ছিল। রুবিনা তার মা রাবেয়া খাতুনের সাথে বসবাস করতেন।
গত শুক্রবার দুপুরে তিনি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র ফটোকপি করার জন্য জাজিরা উপজেলা সদরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি। সে বাড়ি না ফেরায় শনিবার তার ভাই শামছুল হক মৃধা জাজিরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
মঙ্গলবার স্থানীয়রা তাদের বাড়ির কাছে একটি বাঁশ বাগানে বাঁশের সাথে ওড়না দিয়ে বাঁধা লাশের সন্ধান পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বড় মূলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খান আব্দুর রহিম বলেন, স্কুল শিক্ষক রুবিনা নিখোঁজ হল, কিন্তু পুলিশ তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলনা। রুবিনার জন্য আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। সে খুব ভাল শিক্ষক ছিলেন। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। রুবিনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এ হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।
রুবিনার ভাই শামছুল হক মুন্সী বলেন, শুক্রবার রুবিনা রোজা ছিল। কাজের জন্য জাজিরা উপজেলায় গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইফতার করার কথা ছিল। কিন্তু বোনটিকে কোথায়ও খুঁজে পেলাম না। পুলিশের কাছে ছুটে গেলাম। পুলিশও সন্ধান দিতে পারল না। এভাবে বোনের লাশ খুঁজে পাব ভাবতে পারিনি। তাকে হত্যা করে বাঁশ বাগানে লাশ ফেলে রাখা হয়েছে।
জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, স্কুল শিক্ষিকার লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসাপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সেখানে ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ বলা যাবে। এরপর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।


error: Content is protected !!