শরীয়তপুর বিদ্যুৎ, একটা ফ্যান ও একটা বাল্বের বিল পাঁচ হাজার টাকা। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ মার্চ শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গেলে অভিযোগ করেন দশরশি গ্রামের আলতাফ তালুকদার।
তিনি বলেন, একটা ফ্যান ও একটা বাল্বের বিল পাঁচ হাজার টাকা এতো টাকা কিভাবে দিবো। তার পরেও দিতে হয়েছে। আগেই বেশি পরিশোধ করা হয়েছে বলে, খালি শূন্য ইউনিট দেখাইচ্ছেন তারা। বার বার তাদের বললেও তারা কোনো কিছু জানেনা বলেন। রিতা দাস বিল প্রস্তুতকরেন তাকে জানালে এদিক ওদিক দেখায়।
স্থানীয় জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা গ্রামের মানুষ এই সব মিটারের হিসাব, বিদ্যুৎ বিল সম্পর্কে কিছু বুঝিনা বলেই এরা এভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় মজিবর খান বলেন, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি শুন্য ইউনিট মার্চে এসে এক হাজার ইউনিট কিভাবে আসে। পিছনের সমস্ত বিল দিয়ে দিয়েছি। উল্টো আমরা টাকা বেশি দিয়েছি। ১৯ শে নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে আমি একসাথে ৮৫০ দিয়েছি। অথচ ৮৫০ ইউনিটের বিল যখন দিয়েছি তখন মিটারে ৬৮৮ ইউনিট ছিলো। আমাদের কোনো বিল বাকি নেই। নভেম্বরের পর থেকে মিটার আর বিলের কোনো মিল পাচ্ছি না। মিটারের হিসাব থেকে অনেক বেশি বিল আগেই নিয়েছেন তারা। ভিটা বারি বেইচা দিতে হবে কারেন্ট বিল।
গ্রাহকেরা অভিযোগ করেছেন, কোথাও গিয়ে তাঁরা এই অস্বাভাবিক বিলের কোনো যৌক্তিক কারণ জানতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট বিতরণকারী সংস্থার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করে কোনো সদুত্তর বা প্রতিকারও পাচ্ছেন না।
বিদ্যুতের গ্রাহকরা ভূতুড়ে বিলের খপ্পরে পড়ে এখন চরম বিপাকে। গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের এক শ্রেণির অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনেককে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছেন। আর তার বিল মেটাতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ইউনিট সাধারণ গ্রাহকের হিসাবে যোগ করে দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জুলফিকার রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সমস্ত কাগজপত্র দেখে তার স্টাফদের ডেকে তিনি বলেন এই কাজ যে করেছেন তার কি চাকুরী থাকা উচিৎ নাকি। এবং সাথে সাথে এই বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত করে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন তদন্ত রিপোর্ট পেয়ে আমরা যথাযথ ব্যাবস্থা নিবো।
অফিস সূত্রে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার তিনটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, মিটার রিডিংয়ে কারচুপি। মিটার রিডাররা প্রতি মাসে সব গ্রাহকের মিটারের রিডিং সরেজমিনে না নিয়ে অনুমাননির্ভর বিল করেন। ফলে কোনো কোনো মাসে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় বিল কিছু কম হতে পারে। এতে কয়েক মাসের ব্যবহার থেকে কিছু কিছু জমা হয়ে মে-জুন এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বাড়তি বিল আসতে পারে।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন