Friday 1st March 2024
Friday 1st March 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

শরীয়তপুরে কৃষি প্রযুক্তি মেলা বৃষ্টির কবলে

শরীয়তপুরে কৃষি প্রযুক্তি মেলা বৃষ্টির কবলে

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শরীয়তপুরের উদ্যোগে সোমবার হতে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু হয়েছে। মেলার উদ্বোধনী দিনের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়া ও মেঘলা আকাশ সূর্য আড়াল করে রেখেছিল। হালকা বৃষ্টিও হয়েছে দফায় দফায়। সকাল ৯টার পর থেকে আকাশ মেঘমুক্ত হয় এবং বৃষ্টির প্রভাব কিছুটা কেটে গেলে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মেলার শুভ উদ্বোধন ও আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হয়। দূরদূরান্ত থেকে যে সকল প্রদর্শণী স্টল মেলায় এসে পৌঁছেছে তাদের অনেকে স্টল দখল করেছে। কেউ কেউ মেঘ বৃষ্টির আশঙ্কায় স্টল সাজায়নি। স্থানীয় কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে অনেকে স্টলে বসেনি। প্রথম দিন মেলার কতিপয় স্টলে কৃষি প্রযুক্তির অনেক বিষয় প্রদর্শিত হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকে মুষলধারে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত থাকায় বেশীরভাগ স্টলই খালী ছিল। যে সকল স্টলে প্রদর্শণী রাখা হয়েছে বৃষ্টিতে ভিজে সেই সকল স্টলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
তিন সদস্য বিশিষ্ট মূল্যায়ন কমিটিতে জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা একেএম মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। অপর সদস্য সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার রায় ও সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. সিরাজুল হক মূল্যায়ন কার্যক্রমে অনুপস্থিত ছিলেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মেলায় মোট ১৯টি স্টল রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে স্টল মূল্যায়ণের সময় ৮টি স্টল মূল্যায়িত হয়েছে। বাকী সব স্টলে কোন প্রদর্শণী কার্যক্রম না থাকায় তা মূল্যায়ণ করা যায়নি।
ইসমাইলী মাশরুম সেন্টারের স্বত্তাধিকারী মো. আসহান উল্লাহ ইসমালী অভিযোগ করে বলেন, কৃষি প্রযুক্তি মেলায় যে সকল স্টল রাখা হয়েছে তা খুবই সাধারণ। বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার আগেই স্টলের ভিতরে রাখা জিনিসপত্র ভিজে যায়। তাই তিনি মূল্যবান কোন যন্ত্রপাতি ও পণ্য মেলার স্টলে রাখেননি। ত্রিপল দিয়ে বৃষ্টি নিয়ন্ত্রিত স্টল করা হলে মেলার সার্থকতা মিলত। এখন শুধু নামমাত্র মেলা হয়েছে। এতে কৃষি প্রযুক্তির কোন বিষয়ই জনসাধারনের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে আসা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর বৈজ্ঞানীক সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান শামীম জানায়, ৩৯ প্রকার ধান নিয়ে মেলায় উপস্থিত হয়েছি। মেলা শুরুর দিন কিছু সংখ্যক লোক আমাদের স্টলে আসে। তাদের ধান সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি। স্টলের ভিতরে থাকার উপায় নাই। তেমন দর্শণার্থীও আসতে পারছে না। বৈরী আবহাওয়ার কারনে মেলায় তেমন সফলতা পায়নি।
স্টল মূল্যায়ন কমিটির সদস্য একেএম মহিউদ্দিন মূল্যায়ন শেষে বলেন, এ মেলার মাধ্যমে বর্তমান সময়ের কৃষির যে প্রযুক্তি সেই প্রযুক্তির সাথে কৃষক পরিচিত হবে। স্টল নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিতে আধুনিকতা আনা হলে কোন স্টল ফাঁকা থাকত না, স্টলের ভিতরে পানি পড়ে জিনিসপত্র ভিজতো না। সেই দিকে নজর রাখা হলো না কেন? জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য না করে দ্রুত চলে যান।
উল্লেখ্য, এ মেলা উদ্বোধন উপলক্ষ্যে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে সোমবার সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রিফাতুল হোসাইনের সভাপতিত্বে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার, জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামাবুবুর রহমান শেখ প্রমূখ। মেলায় সমন্বিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ প্রকল্পের ১৯টি স্টল রয়েছে। আজ (বুধবার) মেলার সমাপনী দিন।