ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ২০১৯ (সিএএ)-এর আওতায় আজ সোমবার ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আসামে প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি নারী নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ করেছেন, অন্যদিকে ওড়িশা রাজ্যে একযোগে ৩৫ জনকে সনদ তুলে দেওয়া হয়েছে।
আসামের শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ওই নারী তাঁর নাগরিকত্ব পেয়েছেন ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৫(১)(সি) এবং ধারা ৬বি-এর অধীনে। এই বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ভারতীয় নাগরিককে বিবাহ করেন এবং টানা সাত বছর ধরে সেদেশে বসবাস করেন, তবে নিবন্ধনের মাধ্যমে তিনি নাগরিকত্ব অর্জনের আবেদন করতে পারেন।
ওই নারী ২০০৭ সালে পরিবারের সদস্যের চিকিৎসার জন্য ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে শ্রীভূমি (সাবেক করিমগঞ্জ) জেলার এক যুবককে বিয়ে করে ভারতেই স্থায়ী হন। তিনি গত বছর সিএএ বিধি কার্যকর হওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব জানান, তিনি আসামে সিএএর আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়া প্রথম নারী।
অন্যদিকে, ওড়িশার জনশুমারি অধিদপ্তরের তথ্য নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া ৩৫ জনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশি। গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি তাদের হাতে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেন।
নতুন নাগরিকদের স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের কাছে এই আইনটি আশ্রয় ও আশ্বাসের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ এই খবর প্রকাশ করে।
২০২৪ সালের ১১ মার্চ কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করা অমুসলিমরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ পান। এই বিধান মেনেই ওড়িশায় সিএএর আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। রাজ্যে আরও প্রায় ১১০০টি আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্তব্য করুন