Thursday 3rd April 2025
Thursday 3rd April 2025

পবিত্র হজ আজ

পবিত্র হজ আজ

আজ শনিবারও ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)Ñ এই ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ

পালন করতে মক্কায় সমবেত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার তাদের মিনায় অবস্থান করার মধ্য দিয়েই হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও এ বছরের মূল হজ শুরু হচ্ছে আজই।

আজ ফজরের নামাজ আদায় করে হজযাত্রীরা মিনা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে যাবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এরপর সেখান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন। রবিবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরবেন। এ সময় হাজিরা বড় শয়তানকে পাথর মারবেন, কোরবানি দেবেন, মাথার চুল ছেঁটে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ, সাঈ শেষে আবার মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ (সৌদি আরবের তারিখ অনুযায়ী) পর্যন্ত অবস্থান করবেন। সেখানে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা। প্রত্যেক শয়তানকে সাতটি করে পাথর মারতে হয়। প্রথমে জামারায় সগির বা ছোট শয়তান, তারপর জামারায় ওস্তা বা মেজ শয়তান, এরপর জামারায় আকাবা বা বড় শয়তান।

সৌদি আরবের গ্রাম ও পৌরবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হাবিব জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘জামারায় প্রতি ঘণ্টায় তিন লাখ হাজি পাথর নিক্ষেপ করতে পারবেন।’

এদিকে প্রতিবছর হজের সময় মুসল্লিদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো হয়েছে হাজার হাজার তাঁবু। গতকাল সেখানে অবস্থান করেন বাংলাদেশের ১ লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রী। মিনায় ২৪/৬২ নম্বর তাঁবু বাংলাদেশ হজ কার্যালয়।

মিনা গতকাল ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

এদিকে পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা এবং এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন আছে। সঙ্গে কাজ করছে ১৬ হাজার গাইড।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি পবিত্র হজ। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজ। আর্থিকভাবে সমর্থ ও শারীরিকভাবে সক্ষম পুরুষ ও নারীর জন্য হজ ফরজ। দুই মাইল দৈর্ঘ্য ও দুই মাইল প্রস্থের বিরাট সমতল ময়দানের নাম আরাফাত। ময়দানের তিন দিক পাহাড়বেষ্টিত। জাবাল মানে পাহাড়। জাবালে রহমত হলো রহমতের পাহাড়। বলা হয়ে থাকে, এই পাহাড়ে হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.)-এর দেখা হয়েছিল। হজরত মুহাম্মদ (সা.) জাবালে রহমত পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এই পাহাড়ে একটি উঁচু পিলার আছে। একে কেউ কেউ দোয়ার পাহাড়ও বলেন।