শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের ভানু মল্লিকের কান্দি এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কাদির মল্লিক ও তাঁর ভাই হকসাব মল্লিকের বিরুদ্ধে। বসতঘরের সামনে বাথরুম ও টিউবওয়েল স্থাপনের অভিযোগও করেছেন জমির দাবিদার আনোয়ার হোসেন মল্লিক।

অভিযোগকারী আনোয়ার হোসেন মল্লিকের দাবি, ভানু মল্লিকের কান্দি এলাকায় তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। ব্যবসার কাজে তিনি ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে তাঁর মা ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বসবাস করেন। তাঁদের কাছ থেকেই তিনি জানতে পারেন, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কাদির মল্লিক ও তাঁর ভাই হকসাব মল্লিক ওই জায়গায় ঘর নির্মাণ করছেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। সালিসকারীরা জমি পরিমাপ করে মালিকানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ঘর নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর পুলিশ ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি পরিমাপ ও বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এরপরও ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন আনোয়ার হোসেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুল কাদির মল্লিক ও তাঁর ভাই হকসাব মল্লিক। তাঁদের দাবি, তাঁরা নদীভাঙনের শিকার। বসবাসের জন্য জায়গা না থাকায় চাচাতো ভাই বেলায়েত মল্লিকের খাস জায়গায় ঘর নির্মাণ করেছেন। জমি পরিমাপ করে আনোয়ার হোসেন মল্লিক মালিকানা প্রমাণ করতে পারলে তাঁরা ঘর সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাবেন। একইভাবে সরকার তাদের ওই জায়গা থেকে সরিয়ে দিলে ঘর সরিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তাঁরা।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর একাধিকবার ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য অভিযোগটি উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।