ফুটবল মাঠে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরস্কার হিসেবে সাধারণত ট্রফি, অর্থ কিংবা গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়া হয়। তবে শরীয়তপুরে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে একসময়কার জমিদার ও রাজাদের ব্যবহৃত একটি ঐতিহাসিক ঘোড়া। ব্যতিক্রমী এই পুরস্কার দেখতে ও টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে মাঠে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নে ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে এ আয়োজন করা হয়। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, মাদক থেকে দূরে রাখা এবং গ্রামীণ ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙা করার উদ্দেশ্যে টুর্নামেন্টটির আয়োজন করা হয়।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় বেস্ট ফাইটার স্পোর্টিং ক্লাব ও বেপারী স্পোর্টিং ক্লাব। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা বেস্ট ফাইটার স্পোর্টিং ক্লাব শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
খেলা শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে তুলে দেওয়া হয় টুর্নামেন্টের আকর্ষণীয় প্রথম পুরস্কার—ঐতিহাসিক ঘোড়াটি। আর রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের দেওয়া হয় ৩২ ইঞ্চি একটি টেলিভিশন।
টুর্নামেন্টটির আয়োজন করেন আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে ও সাবেক ছাত্রনেতা বাবু হাওলাদার। ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে আংগারিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শকেরা মাঠে উপস্থিত হন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা।
আয়োজক বাবু হাওলাদার বলেন, তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং মাদক থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি গ্রামীণ ক্রীড়ার প্রসার ঘটাতেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যতিক্রমী পুরস্কার হিসেবে ঐতিহাসিক ঘোড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টকে দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সাধারণ ফুটবল টুর্নামেন্টের চেয়ে এ আয়োজন ছিল ব্যতিক্রম। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কার হিসেবে ঘোড়া দেওয়ার বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা গেলে মাদকসহ নানা সামাজিক অপরাধ থেকে তাদের দূরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।