শিশুদের তুচ্ছ খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় এক সাড়ে তিন বছরের নিষ্পাপ শিশুকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় পার্শ্ববর্তী একটি ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রক্তভেজা এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

​নিহত শিশুটির নাম সোয়াইফ (৩)। সে ডামুড্যা উপজেলার পশ্চিম আদাসন গ্রামের বাসিন্দা সেলিম সরদার ও শিমুলী বেগম দম্পতির সন্তান।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে বাড়ির আঙিনা থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যায় সোয়াইফ। স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি। পরবর্তীতে দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে অভিযুক্তদের বাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি জলাশয়ে ভাসমান বস্তা দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে বস্তার মুখ খুলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সোয়াইফের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির দেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

​এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আবু আলম সিকদার ও রাসেল সিকদার নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জানার পরপরই ডামুড্যা থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাসেল সিকদারকে গ্রেপ্তার করে। তবে মূল অভিযুক্তদের একজন আবু আলম সিকদার ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

​এদিকে, অবুঝ শিশুটিকে এমন নির্মমভাবে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আদাসন গ্রামজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযুক্তদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

​ডামুড্যা থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাসন এলাকা থেকে এক শিশুর গলা কাটা বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে ইতোমধ্যেই একজনকে আটক করা হয়েছে এবং পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর অভিযান চলছে। জঘন্য এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।