শরীয়তপুরের ভেদেগঞ্জ উপজেলার ছয়গাও ইউনিয়নে কাবিটা–কাবিখা ও টিআর প্রকল্প বাস্তবায়নে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাজ না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলন, পুরোনো ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার, প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড না লাগানোসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এসব অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে প্রকল্পে নেই কাজ, সাইনবোর্ড লুকানো

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে পাকা রাস্তা থেকে মনসুর সরদারের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে কোনো রাস্তার অস্তিত্বই নেই। একটি সাইনবোর্ড নারিকেল গাছের ডালের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিগোচর হয় না। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নামে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে পুরো অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে।

৭নং ওয়ার্ডে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার কাজ ৩০ হাজারেই সেরে ফেলার অভিযোগ

মনুয়া বাজার থেকে বারেক সিকদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য রেন্টু খান ভেকু দিয়ে মাত্র পাঁচ দিনের কাজ করেই প্রকল্প বন্ধ করে দেন। আনুমানিক ৩০–৪০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। বাকি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই কাজ অসম্পূর্ণ রাখা হয়েছে। এ প্রকল্প এলাকাতেও কোনো সাইনবোর্ড নেই।

৯নং ওয়ার্ডে নামে-বেনামে রাস্তা, ব্যয় মাত্র ৬০ হাজার টাকার মতো

পাপরাইল পাকা রাস্তা থেকে আব্বাস সরদারের পুকুরপাড় পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ টাকা। সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র ২০০ ফুট রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের চার–পাঁচ হাজার ইট ও অল্প পরিমাণ বালু ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের মান দেখে ধারণা করা যায়, প্রকৃত ব্যয় ৫০–৬০ হাজার টাকার বেশি নয়। অথচ কাগজে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানো হয়েছে। এখানেও সাইনবোর্ড অনুপস্থিত।

নিজ বাড়িতে ‘সরকারি রাস্তা’—২নং ওয়ার্ডে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

২নং ওয়ার্ডে সিংঙ্গাচুড়া ওঝা বাড়ির সিসি ঢালাই রাস্তার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্য রুহুল ওঝা প্রকল্পের নাম ব্যবহার করে নিজের বাড়িতে অল্প পরিমাণ ঢালাই করে পুরো অর্থ উত্তোলন করেছেন। এতে সাধারণ জনগণ কোনো সুবিধা না পেলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি লাভবান হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ—ইচ্ছাকৃতভাবেই সাইনবোর্ড লাগানো হয় না

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,
“প্রায় সব প্রকল্পেই সাইনবোর্ড থাকে না। ইচ্ছাকৃতভাবেই এগুলো চোখের আড়ালে রাখা হয়, যাতে কাজের মান ও অর্থের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে কেউ জানতে না পারে।”

তদন্তের আশ্বাস পিআইও কর্মকর্তার

এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উজ্জ্বল মণ্ডল বলেন,
“আমরা অভিযোগ পেয়েছি। খুব দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রকল্পে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক।