সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের একসময়ের কাউন্সিলর থেকে শুরু করে দুই মেয়াদের সফল মেয়র—আরিফুল হক চৌধুরী এবার অভিষিক্ত হলেন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের পর তাকে ‘শ্রম ও কর্মসংস্থান’ এবং ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান’ এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. জয়নাল আবেদীন পান ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট। প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি চমক সৃষ্টি করেন।

আরিফুল হকের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্রদলের মাধ্যমে। ২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাজন আরিফ তখন থেকেই সিলেটের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূল কারিগর হিসেবে পরিচিতি পান। ২০১৩ ও ২০১৮ সালে টানা দুইবার জনপ্রিয় মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় আসেন।

বিগত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবং সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিনি সিলেট-৪ আসনে লড়াই করেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতাকে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়াকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শপথ শেষে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, “দলের প্রতি ও জনগণের প্রতি আমার যে ঋণ, তা আমি কাজ দিয়ে শোধ করতে চাই। বিশেষ করে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান ও শ্রমবাজারের উন্নয়নে আমি অগ্রাধিকার দেব।”