প্রায় দেড় যুগের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে দেওয়া সেই আলোচিত প্রতিশ্রুতি ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি দেশের উন্নয়ন, বিকেন্দ্রীকরণ এবং কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা মূলত আমার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ। আমরা ইতোমধ্যেই প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু করেছি। এই যাত্রায় আমি দেশবাসীর অব্যাহত সমর্থন চাই।”

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাজার ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন:

১. বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা: ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ ও অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
২. বিকেন্দ্রীকরণ ও যানজট নিরসন: রাজধানী ঢাকার ওপর থেকে জনসংখ্যার চাপ কমাতে রাষ্ট্রীয় বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেন তিনি। জেলা পর্যায়ে অফিস-আদালত ও ব্যবসা সচল করতে রেলসহ সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
৩. তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে টিকে থাকতে তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, তরুণদের প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই হবে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, তাঁর সরকার কেবল দলীয় সমর্থকদের নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবে। বিশেষ করে রেল যোগাযোগকে সহজ ও সুলভ করার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।