শরীয়তপুরের ডামুড্যায় জমির আইলের পাশ থেকে মামুন শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, জমিতে সার ও কীটনাশক দিতে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাশন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামুন শেখ ওই এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মামুন শেখের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই আবুল শেখ ও মালেক শেখের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পর বিরোধপূর্ণ একটি জমি মামুনের পরিবার ফিরে পায় বলে দাবি পরিবারের।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ওই জমিতে সার ও কীটনাশক দিতে বাড়ি থেকে বের হন মামুন। দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান, তিনি জমির আইলের পাশে পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, তখন তার মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল।
মামুনের বড় ছেলে রাকিব বলেন, সকালে বাবার সঙ্গে কথা বলে তিনি মডেরহাট বাজারে যান। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পান, তার বাবা জমির আইলের পাশে পড়ে আছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবার মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রাকিব আরও বলেন, তাদের একটি জমি আবুল শেখ ও মালেক শেখ জোর করে দখল করে নিয়েছিলেন। পরে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে তারা জমিটি ফিরে পান। ওই জমিতে কীটনাশক দিতে গিয়েছিলেন তার বাবা। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
মামুন শেখের স্ত্রী আসমা বেগম অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবুল ও মালেক বিভিন্ন সময় তার স্বামীকে মারধরের জন্য এসেছেন। তার অভিযোগ, তার স্বামীকে তারা হত্যা করেছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল শেখ। তিনি বলেন, ওই জমি তারা অনেক বছর আগে মামুনের কাছ থেকে কিনেছিলেন। কয়েকদিন আগে মামুন জোর করে জমিটি দখল করে নেন। তিনি সকালে তার কর্মস্থল মৎস্য অফিসে চলে যান। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানতে পারেন। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।
ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ নাহিদুস সালাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। এরপরও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইসিজি করা হয়। সেখানেও মৃত ব্যক্তির কোনো হৃদস্পন্দন পাওয়া যায়নি।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মরদেহ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন