রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

তিনি জানান, বাগেরহাটের রামপালে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যাটারি সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত করা হবে। এতে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়বে।

রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জমিতেই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ এগোয়নি। ফলে এর জন্য প্রস্তুত করা বিপুল পরিমাণ জমি অব্যবহৃত রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ওই এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতোমধ্যে প্রায় ৬৮৫ একর জমি ভরাট করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার ওই জমি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। ফলে নতুন করে প্রকল্পের জন্য অন্য কোনো জায়গা অধিগ্রহণ বা প্রস্তুতের প্রয়োজন হবে না। তবে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়ন ও ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

একনেক সভায় অবকাঠামোর মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণের তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিজ খরচে তা মেরামত করতে হবে। এ শর্ত বাস্তবায়নে চুক্তিতে প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টির ধারা যুক্ত করা হবে।

এ ছাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে নির্মিত সড়কে বাধ্যতামূলকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। জমে থাকা বৃষ্টির পানি সড়কের পৃষ্ঠ নষ্ট করে। তাই পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছাড়া ভবিষ্যতে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো সড়ক প্রকল্প নেওয়া হবে না।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। এ প্রকল্পে ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে মোট ব্যয় ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার আরেকটি প্রকল্পও অনুমোদন দিয়েছে একনেক।