ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি ও আশপাশের রাজ্যগুলোতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ ঘিরে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) প্রায় ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন অনুযায়ী, ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লিজুড়ে সিএপিএফের ২২১ কোম্পানি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর বাইরে দিল্লি পুলিশের অধীনেও আরও ১১০ কোম্পানি সিএপিএফ সদস্য রাখা হবে।
বিক্ষোভের সময় দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত ২০ হাজার সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে রাজধানীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কয়েক স্তরে জোরদার করা হচ্ছে।
এর আগে জুলাইয়ে সিজেপির যন্তর-মন্তর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫০ কোম্পানি সিএপিএফ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। কৃষক আন্দোলনের সময় মোতায়েন করা হয়েছিল ৯৩ কোম্পানি। সেই তুলনায় শনিবারের বিক্ষোভে জুলাইয়ের দ্বিগুণের বেশি এবং কৃষক আন্দোলনের প্রায় চার গুণ সিএপিএফ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির সীমান্ত এলাকাগুলোতেও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নয়াদিল্লির সব মেট্রোস্টেশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মার্কেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে পুলিশ।
ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক স্তরের ব্যারিকেড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো দিল্লিজুড়ে ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তিসহ ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে।
জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আদেশ জারির ক্ষমতাও ম্যাজিস্ট্রেটদের দেওয়া থাকবে। পাশাপাশি বিক্ষোভের সময় পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে থাকার জন্য উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানাসহ দিল্লির পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। যন্তর-মন্তরে শুরু হতে যাওয়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি

মন্তব্য করুন