শরীয়তপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বরাত মৃধা (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বরাত মৃধা ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের মডেরহাট এলাকার বাসিন্দা রুবেল মৃধার ছেলে।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে বরাতের জ্বর শুরু হয়। প্রথম দিকে সাধারণ জ্বর ভেবে স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ এনে তাঁকে খাওয়ানো হয়। কয়েক দিন পর রোববার ভোরে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। একই সঙ্গে তাঁর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে ৪ দশমিক ৮ গ্রামে নেমে যাওয়ার কথা জানান চিকিৎসকেরা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলেও পথে শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। পরে দ্রুত তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের আগেই দুপুর ১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
বরাতের খালা বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁর জ্বর ছিল। প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে হওয়ায় ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়। রোববার সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেদরগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা রক্তের মাত্রা অনেক কমে যাওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ঢাকায় নেওয়ার পথে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আনা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুসরাত আসপিয়া এলিজা বলেন, হাসপাতালে আনার সময় রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তাঁর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮ এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল। তাঁকে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানান্তরের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মন্তব্য করুন