সিলেটের জকিগঞ্জে জমি-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার দাবিতে পরিবারের সদস্যদের ওপর ছেলের হামলায় গুরুতর আহত মা পিয়ারা বেগম (৬৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় আড়াই বছরের শিশুকন্যासহ পরিবারের আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযুক্ত ছেলে সুমন আহমদকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত পিয়ারা বেগম জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের স্ত্রী। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সুমনকে জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম সরকারের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার টাকা ও সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে সুমন তাঁর সৎমা কুটিনা বেগমকে (৪৫) সুপারিগাছের রুইল দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর চোখে গুরুতর জখম হয়। পরে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ছেলের হামলা থেকে রক্ষা করতে পিয়ারা বেগম তাঁকে অন্য ছেলে শাহীন আহমদের ঘরে আশ্রয় দেন।
পরদিন শনিবার রাত ১১টার দিকে সুমন আবারও পরিবারের কাছে টাকা দাবি করেন এবং বাড়ির জমি-সম্পত্তি তাঁর নামে লিখে দিতে বলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এতে পিয়ারা বেগম, কুটিনা বেগম, শাহীন আহমদ (৩৮), শাহিনের স্ত্রী শাহানা বেগম (৩২) এবং আড়াই বছরের শিশু ইসরাত জাহান গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার মধ্যরাতে পিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, সুমন কয়েক দিন ধরে টাকা দাবি করার পাশাপাশি সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত এবং নেশার টাকা জোগাড় করতে পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন।
এ ঘটনায় সুমনের বড় ভাই শাহীন আহমদ বাদী হয়ে সুমন ও অপর ভাই শামীম আহমদকে (৪৭) আসামি করে মামলা করেছেন। শাহীন জানান, হামলায় তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সৎমা কুটিনা বেগমের চোখের আঘাতও গুরুতর। তিনিও নিজে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে সুমনকে তাঁর বসতঘর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পিয়ারা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হত্যা-সংক্রান্ত দণ্ডবিধির ধারা সংযোজন করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে জমি-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। সুমনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন