সাত দফা কোনো ব্যক্তি বা দলের দাবি নয়, এটি জনগণের দাবি— এমন মন্তব্য করে সরকারকে এক দফার আগে সাত দফা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার রাতে যশোরের মুড়লীর মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, অথচ সরকার সেই রায় অস্বীকার করেছে। তাঁর অভিযোগ, সংসদ নির্বাচনের রায় ছিনতাই করা গেলেও গণভোটের রায় ছিনতাই করা যায়নি। ক্ষমতায় যাওয়ার আগে গণভোট মেনে নেওয়ার কথা বললেও ক্ষমতায় বসে সরকার অবস্থান বদলেছে। এভাবে জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে তাদের অপমান করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এর জবাব জনগণই দেবে। জনগণ তাদের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এর প্রতিশোধ নেবে। সাত দফার মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাকি ছয়টি দাবি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একটি ইনসাফপূর্ণ, বৈষম্যহীন এবং যুবসমাজের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে প্রথম দাবি আগে বাস্তবায়ন জরুরি বলেও তিনি বলেন।
সরকারের বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমীর। পথসভায় উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, কারা এসব কার্ড পেয়েছেন। কেউ হাত না তুললে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি বাংলাদেশের জনগণ না?’ তাঁর বক্তব্য, এসব কার্ড জনগণের অর্থে দেওয়া হচ্ছে, তাহলে সাধারণ মানুষ কেন পাচ্ছে না, কার্ডগুলো কোথায় যাচ্ছে। এ সময় রাতের বেলা পুকুরপাড়ে কার্ড বিতরণ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে স্বাগত জানানোর জন্য যশোরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশ, জনগণ ও মাটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই মানুষ অপেক্ষা করেছে। প্রায় ১৫ মিনিটের বক্তব্য শেষে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে লংমার্চের পরবর্তী যাত্রার কথা জানান তিনি।
দুপুর থেকে শুরু হওয়া পথসভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল। এতে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, নায়েবে আমীর হামিদ হোসেন আজাদ, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম।




মন্তব্য করুন