শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. শরীয়ত উল্লাহর বিরুদ্ধে জমি নামজারির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নামজারির জন্য তিনি সাড়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তা আবার ফেরত দেন ওই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় নিজের ভুল স্বীকার করে শেষবারের মতো সুযোগ দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১ নভেম্বর) কনেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী এমডি আওলাদ হোসেন জানান, কয়েকটি জমি কেনার পর সেগুলো নিজের নামে নামজারি করতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু আবেদন করার চার মাস পেরিয়ে গেলেও নামজারির কাজ শেষ হয়নি। পরে এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার কথা বলে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা শরীয়ত উল্লাহ তাঁর কাছে ১০ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি ওই কর্মকর্তাকে ১০ হাজার টাকা দেন। পরে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা শরীয়ত উল্লাহ নিজের ভুল স্বীকার করে শেষবারের মতো তাঁকে সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি সম্পর্কে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, ওই কর্মকর্তা টাকা নিয়েছিলেন এবং পরে তা ফেরত দিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে শরীয়ত উল্লাহর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার পর তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয় বলে জানা গেছে। তবে নতুন কর্মস্থলেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় ভূমি অফিসের সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, জমি নামজারিসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা ও অর্থ দাবির অভিযোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। এ জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।