শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

আমাদের প্রযুক্তি প্রতিবন্ধী নয়, প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে: জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান

আমাদের প্রযুক্তি প্রতিবন্ধী নয়, প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে: জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান

শরীয়তপুর জেলায় আঘাত হানে। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও শরীয়তপুর জেলার সিনিয়র জেলা জজ এর নেতৃত্বে এসপায়ার টু ইনোভেট (ধ২র) প্রোগ্রামের সার্বিক সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ।

গত ২৪/১০/২০২২ তারিখ হতে ২৬/১০/২০২২ তারিখ পর্যন্ত ০৩ (তিন) দিনব্যাপী Online Causelist Management System (OCMS) পরিচিতি ও পরিচালনা বিষয়ে ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ কর্মশালার অংশ হিসেবে শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সকল স্তরের বিচারক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং শরীয়তপুর জেলায় আঘাত হানে। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও শরীয়তপুর জেলার সিনিয়র জেলা জজ এর নেতৃত্বে এসপায়ার টু ইনোভেট (ধ২র) প্রোগ্রামের সার্বিক সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলমান রাখা হয়।

সরকারের এসপায়ার টু ইনোভেট (ধ২র) প্রোগ্রাম কর্তৃক আয়োজিত উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শরিয়তপুর জেলার জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের সম্মানিত রেজিস্ট্রার জেনারেল গোলাম রাব্বানী এবং এসপায়ার ট্যু ইনোভেট (ধ২র) প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির।

এছাড়া তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় যুক্ত ছিলেন শরীয়তপুর জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক স্বপন কুমার সরকার, বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ সালেহুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জনাব আবু ইব্রাহিম, এবং শরিয়তপুর জেলায় কর্মরত বিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী, শরিয়তপুর জেলা বিচার বিভাগে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করেন এসপায়ার ট্যু ইনোভেট(ধ২র) প্রোগ্রামের পক্ষ হতে সম্মানিত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জনাব ফারজানা খান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জনাব মোঃ সাব্বির মাহমুদ চৌধুরী এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ জনাব মোঃ মাহবুব সোবহানী। জনাব ফারজানা খান তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট জুডিসিয়ারী গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই বিচার ব্যবস্থায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়া ডিজিটাল জুডিসিয়ারী সম্ভব নয়। সেজন্যই তাদের এই প্রয়াস।

সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান তার বক্তব্যে বিচার বিভাগের ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক বিবর্তন প্রক্রিয়া উল্লেখ করে বলেন, সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পারলে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না।

অন্যান্য বিভাগ তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেকদূর এগিয়ে গেলেও বিচার বিভাগ এখনো পিছিয়ে আছে। বিচার বিভাগকেও এগিয়ে আসতে হবে। এই প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাই এতে প্রযুক্তি প্রতিবন্ধীর স্থলে প্রযুক্তিবান্ধব মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন অনলাইন কজলিস্ট প্রচলন হলে বিচারপ্রার্থী মানুষ সহজে তাদের মামলার তথ্য, তারিখ ও প্রয়োজনীয় আদেশ ঘরে বসে সহজেই জানতে পারবেন। এর ফলে বিচারপ্রার্থী মানুষের পাশাপাশি আইনজীবী এবং বিচার সংশ্লিষ্টদের হয়রানি অনেকাংশে লাঘব হবে। একই সাথে বিচারক সহ বিচার কর্ম বিভাগের সাথে জড়িত সকলের জবাবদিহিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

তিন দিনব্যাপী চলমান এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রথম দিনে অনলাইন কজ লিস্ট সিস্টেম সংক্রান্ত খুঁটিনাটি সকল বিষয়ে পরিচিতি প্রদান করা হয়, দ্বিতীয় দিনে প্র্যাকটিক্যালি সকল প্রশিক্ষণার্থীদের তথ্য ইনপুট এবং হালনাগাদ করানো শিখানো হয়। তৃতীয় দিনে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জনাব সাব্বির মাহমুদ চৌধুরীর পরিচালনায় সকল প্রশিক্ষণার্থী জেলা জজ শেখ মফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে তাদের প্রশিক্ষণলব্ধ নিজ নিজ দক্ষতা প্রদর্শন করেন।

উক্ত ভার্চুয়াল প্রশিক্ষন অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে আরও বক্তব্য রাখেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক স্বপন কুমার সরকার এবং বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সালেহুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।

বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জনাব শেখ মফিজুর রহমান তার সমাপনী বক্তব্যে এটুআই প্রজেক্টের তিনজন রিসোর্স পার্সন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জনাব ফারজানা খান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাব্বির মাহমুদ চৌধুরী এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মাহবুব সোবহানীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আরও বলেন এই বিষয়ে সুফল পেতে হলে মানুষের মাঝে প্রচারনা বাড়াতে হবে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনলাইন কজলিস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওসিএমএস) কতৃক প্রশিক্ষণের বিষয়ে যাতে সবাই জানতে পারে সে ব্যাপারে সবার নিজের জায়গা হতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রশিক্ষনের সাথে সাথেই শরীয়তপুরের সকল আদালতের কার্যতালিকা অনলাইনে প্রকাশ এবং আপডেট করা হয়।

এই কর্মশালার মাধ্যমে শরিয়তপুর জেলার সকল বিজ্ঞ বিচারক, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান কতৃক মনোনীত কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অনলাইন কজলিস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তথ্য ইনপুট ও নিয়মিত আপডেট দেবার যাবতীয় বিষয়াদি হাতে কলমে শিখেছেন।

আজ হতে শরীয়তপুর জেলার বিচার প্রার্থী জনগণ,আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট সবাই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে তাদের মামলা সংক্রান্ত তথ্য ঘরে বসেই জানতে পারবে।


error: Content is protected !!