বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং, ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রজব, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং

শরীয়তপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

শরীয়তপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

শরীয়তপুর সদরের সাব রেজিস্ট্রার অফিসে দূর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক আজকের দর্পণের ব্যুরো প্রধান ও সাপ্তাহিক হৃদয়ে শরীয়তপুর পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ জামাল মল্লিক (৪২) সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। এঘটনায় বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শরীয়তপুর সদরের সাব রেজিস্ট্রার অফিসে হামলার শিকার হন সাংবাদিক জামাল মল্লিক। এঘটনায় পালং মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে জেলা শহরের পালং মধ্যবাজারস্থ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে যায় সাংবাদিক মোহাম্মদ জামাল মল্লিক। ওই সময় ঘুষের টাকা আদান প্রদানের ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে বহিরাগত সোলেমান সরদার (৪০), আলী সরদার (৬০) ভেন্ডার সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন সাব রেজিষ্ট্রি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সাংবাদিক জামালের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। হামলায় সাংবাদিক জামাল মল্লিক গুরুতর আহত হন। হামলায় তার শরীরের বিভিন্নস্থানে নীলাফুলা ও রক্তাক্ত জখম হয়। তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়। জোরপূর্বক মোবাইলের ধারনকৃত ভিডিও চিত্র ডিলিট করা হয়। জামালের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এঘটনায় জামাল মল্লিক বাদি হয়ে পালং মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এব্যাপারে সাংবাদিক মোহাম্মদ জামাল মল্লিক বলেন, সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বহিরাগত সন্ত্রাসী সোলেমান সরদার ও আলী ভেন্ডার (সরদার) সহ ৪/৫ সাব রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতেই আমার ওপর হামলা করে। প্রথমে আমাকে বেধরক মারধর করে। এরপর আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ধারনকৃত অবৈধ অর্থ আদানপ্রদানের ভিডিও ডিলিট করে মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বক্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সে (জামাল মল্লিক) কি ভিডিও করেছেন, আমি তা দেখতে চেয়েছি। আলী ভেন্ডার ও তার ভাইকে বারবার নিষেধ করেছি, সাংবাদিকের গাঁয়ে যেন হাত না তোলে। আমার অফিস ঘুষ বাণিজ্য মুক্ত। আমি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি।

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বলেন, সাংবাদিক জামাল মল্লিককে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। দোষীদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যহত রয়েছে।


error: Content is protected !!