শরীয়তপুর শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন গভীর সংকটে। দিনে খুন, সন্ধ্যায় চুরি—এমন ধারাবাহিক অপরাধের ফলে নিরাপদ শহরের ধারণা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে সিসি ক্যামেরার অভাবকে কেন্দ্র করে অপরাধীরা বারবার সুযোগ নিচ্ছে, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে পড়ছে বিপাকে।
গত ১২ অক্টোবর রূপনগর এলাকায় এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে। একই দিনে পাশের বাড়িতে এক নারীকে অজ্ঞান করে চুরি করা হয়। এসব ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে, কারণ অধিকাংশ স্থানে নেই কোনো সিসি ক্যামেরা।
আবাসিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি না থাকায় অপরাধীরা মুহূর্তেই অপকর্ম করে পালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা এবং সচেতন নাগরিকরা সবাই নিজ উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।
পৌর প্রশাসক মো. ওয়াহিদ হোসেন বলেন,
“চুরি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনা থেকে বাঁচতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।”
পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান,
“সম্প্রতি যেসব বাসাবাড়িতে অপরাধ ঘটেছে, তার বেশিরভাগেই সিসি ক্যামেরা ছিল না। প্রত্যেকটি স্থাপনায় নজরদারি ব্যবস্থা থাকলে অপরাধ দমন সহজ হবে।”
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন,
“পৌর এলাকায় ৭৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১২০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। তবে নাগরিকদেরও নিজ উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।”
প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলায় মাত্র ১–৩% ঘরবাড়ি এবং ৫–১০% ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। যদিও সরকারি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নজরদারির আওতায় এসেছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুললে অপরাধ দমন আরও কার্যকর হবে। ভাড়াটিয়ারা বাড়ির মালিকদের সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে অপরাধের প্রমাণ সহজে পাওয়া যায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

মন্তব্য করুন