বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং, ১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
আজ বুধবার | ১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং

নানান সঙ্কটে ক্রীড়াতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চরমালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০ | ২:০৭ পূর্বাহ্ণ | 48Views

নানান সঙ্কটে ক্রীড়াতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চরমালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়

শরীয়তপুর জেলা শহরে নয়। ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের প্রত্যান্ত অঞ্চলে চরমালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় হওয়া স্বত্তেও শিক্ষায় পাশের হার সহ জাতীয় ভাবে ক্রীড়াতে পুরস্কার প্রাপ্ত বিদ্যালয়টিতে রয়েছে নানান সংঙ্কট। ১৯৭২ সালে স্থাপিত হলেও খেলার মাঠ সহ নেই শহীদ মিনার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের অভাবে বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষে গাদাগাদি করে বসেছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত পরিমাণ খেলার মাঠ ও টয়লেট নেই। এছাড়াও এই বিদ্যালয়ে আজ-অব্দি একটা শহিদ মিনারও নির্মাণ করা হয়নি।
প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে চারপাশে দেয়ালে দেখা যায়। বিভিন্ন সময় ক্রীড়াতে পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের ছবি টানানো রয়েছে। বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকলেও পাশেই রয়েছে বড় পুকুর ও খাল-বিল।
তাই শিক্ষার্থীরা সাঁতার প্রতিযোগিতায় পেয়েছে জাতীয় পুরস্কার। ২০১৩ সালে জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসার সাঁতার প্রতিযোগিতায় জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে ৪ জন শিক্ষার্থী। ১০ শ্রেনীর আশরাফুল, সজিব, সাইমন ও ৮ম শ্রেণীর আবুল হাসেম।
এরপর দেখা যায়, ২০১৫ সালে একই প্রতিযোগিতায় জাতীয় ভাবে ৫ জন কৃতি সাঁতারুর নাম ও ছবি টানানো। তারপর ২০১৭ সালে জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসার উপ অঞ্চল, ঢাকা কাবাডি প্রতিযোগিতায় অঞ্চল বিজয়ী সাতারুদের ছবি টানানো। ছবির পোস্টেরের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের দুই পাশে রয়েছেন, প্রধান শিক্ষক মো.জয়নাল আবেদীন এর ছবি ও সিনিয়র শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক আঃ জলিল এর ছবি।
এ ব্যাপারে সিনিয়র শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক আঃ জলিল বলেন, ১৯৯৬ সালে আমি যোগদান করার পর থেকেই উপজেলা হাইস্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতির খেলায় কয়েক বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তাছাড়াও আমি উপজেলা পুলিশ কাবাডির কোচ। আমার কোচিংয়ের নেতৃত্বে ডামুড্যা উপজেলা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়। এবং আমি উপজেলার বিভিন্ন ইভেন্টে রেফারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করি। আমরা মুলত স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে খেলোয়ার বাছাই করে জাতীয় পর্যায়ে পাঠাই। তবে আমরা সরকারিভাবে তেমন কোন সাহায্য পাইনা, পেলে আরো ভাল করতাম।
এ বিষয়ে বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবদিন বলেন, আমি ১৯৮৬ সালে যোগদান করি। তখন জুনিয়র হাই স্কুল ছিলো। পর্যায়ক্রমে হাইস্কুলে উন্নিত করে। আমাদের বিদ্যালয়টি লেখাপড়ায় খেলাধুলায় ভালো রেজাল্ট করে। কিন্তু আমাদের স্কুলে বিভিন্ন সমস্যা। গতবছর এসএসসি পরিক্ষায় চুরানব্বই পারসেন্ট শিক্ষার্থী পাশ করেছে। আশা করি এবছরও ভালো করবে। আমরা বিদ্যালয়ে খেলাধুলার পাশাপাশি বিতর্ক, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে থাকি। আমাদের বিদ্যালয়টা প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়া স্বত্তেও ক্রীড়াতে আমরা জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছি। স্কুল ভালো হওয়ার পরেও আমাকে অনেক কিছু মোকাবেলা করে চলতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভৌত কাঠামো। বর্তমানে আমাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ৬’শ। সেই অনুযায়ী শ্রেণী কক্ষ নেই। কম্পিউটার ল্যাব নেই। শহীদ মিনারও নেই। এই সমস্যার ভেতর দিয়ে স্কুল চালিয়ে যাচ্ছি। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু নজর দেয়। তাহলে আমরা আরো ভালো করতে পারি। সেই সাথে জেলার মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করতে পারি।


-Advertisement-
সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেইসবুক পাতা

-Advertisement-
-Advertisement-
error: Content is protected !!