বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৭ই সফর, ১৪৪২ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ এর গাফিলতিতে দুটি হাত হারালেন কিশোর সাব্বির

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ এর গাফিলতিতে দুটি হাত হারালেন কিশোর সাব্বির
শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ এর গাফিলতিতে দুটি হাত হারালেন কিশোর সাব্বির

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ এর গাফিলতিতে সিয়ামের পর আবারও দুটি হাত হারালেন কিশোর সাব্বির। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে কানাইকাঠি গ্রামে গিয়ে জানা যায়, এক করুণ কাহিনী। দুই হাত কেটে ফেলা কিশোর সাব্বির (১৩) ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব মহিষার গ্রামের আলী মোহাম্মদ খানের ছেলে। সব্বির স্থানীয় একটি স্কুলের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সাব্বির ইসলামপুর কানাইকাঠি গ্রামে তার ফুপু জান্নাতের বাড়িতে বেড়াতে এসে এই ঘটনা ঘটে।
ফুপু জান্নাত বলেন, আমার ভাই অতি দরিদ্র। সাব্বিরের বাবা হাত, পা ভাঙ্গা একজন পঙ্গু মানুষ। মা পরের বাড়ি কাজ করে সংসার চালায়। ১২ মার্চ বিকেলে কানাইকাঠি সেলিম মাদবরের বাড়ির সামনে ফসলী মাঠে পুকুর পাড়ে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফসলি মাঠে পল্লী বিদ্যুৎ এর খুঁটি মধ্যে রেখে চার পাশে ভ্যাকু দিয়ে পুকুর কাটা হয়েছে। স্থানীয় কেউ কেউ বলছে, সেলিম মাদবর পুকুর কাটার ফলে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি হেলে যায়। এই কারণে তার মাটির সাথে ঝুলে পড়ে।
লতিফ মাদবর বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিয়ে বলা হয়েছে। কিন্তু অফিস থেকে বলে দরখাস্ত দিতে ১৫’শ টাকা লাগে। ডামুড্যা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
পুকুর মালিক সেলিম মাদবর বলেন, খুঁটি হেলে পড়ার আগেই তার মাটি থেকে একহাত উপরে ঝুলে ছিলো। এ ব্যাপারে আমি কারো অনুমতি নেইনি।
৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার রিয়াজ উদ্দিন মাদবর বলেন, আমিসহ এই এলাকার সবাই বিদ্যুৎ বিলের কাগজের সাথে অভিযোগের নাম্বারে ফোন দিয়ে জানিয়েছি। বিদ্যুত অফিসের কেউ এই ব্যপারে ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা এর বিচার চাই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফসলি মাঠে ৭/৮ মাস যাবৎ পড়েছিল পল্লী বিদ্যুৎ তার। বার-বার ডামুড্যা বিদ্যুৎ অফিসকে বলার পরেও তারা এই তার সরিয়ে নেয়নি। ১২ মার্চ বিকেলে অবুঝ কিশোর সাব্বির (১৩) না বুঝে হাত দিয়ে বিদ্যুতিক তার সরাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। এই ঘটনার পর বিদ্যুৎ অফিসের লোক এসে তাঁর খুলে নিয়ে গেছে। কখন খুলে নিয়ে গেছে আমরা তা দেখি নেই।
১৬ মার্চ তাকে ঢাকা শেখ হাসিনা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার দুটি হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হন। বর্তমানে সাব্বিরের আবস্থা আশংকাজনক। মৃতুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
গত ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার পথে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পল্লী বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন সিয়াম আহম্মেদ খান (২০)। অসুস্থ সিয়ামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সংক্রমণ দেখা দেয়ায় অস্ত্রোপচার করে কবজির ওপর থেকে দুই হাত কেটে ফেলেন চিকিৎসকরা। সে নড়িয়া উপজেলার মশুরা গ্রামের ফারুক আহম্মেদ খানের ছেলে সিয়াম আহম্মেদ খান।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র জেনারেল ম্যানেজার জুলফিকার রহমান বলেন, ঐ গ্রামে সেলিম মাদবর পুকুর কাটার সময় খুঁটি হেলে যায়। এই কারণে তার ঝুলে পড়ে। সে অনুমতি না নিয়ে এই কাজ করেছে। তাই আমরা তার বিরুদ্ধে ডামুড্যা থানায় একটি মামলা করেছি। ছেলেটির পরিবার যাতে ক্ষতিপূরণ পায়। সেই জন্য সময় নেয়া হয়েছে। আর আমাদের তরফ থেকেও আমরা তার পরিবারের জন্য ব্যবস্থা নিবো। ঐ এলাকায় যে হারে মাছের ঘের করছে। তাতে এরকম ঘটনা আরো ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। ঐখানে গিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাউকে পায়নি। শুনেছি ছেলেটির দুটি হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। ওর বাবাও নাকী এক্সিডেন্ট হয়ে পঙ্গু রয়েছে। ছেলেটি সুস্থ হয়ে উঠুক। আমাদের কাছে অভিযোগ দিলেই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।