শরীয়তপুরের জাজিরায় হঠাৎ বৈশাখী ঝড়ের কবলে বড়কান্দি ইউনিয়নের মির্জা হযরত আলী হাইস্কুল বিধ্বস্ত হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৩০ ফুট লম্বা ২ কক্ষবিশিষ্ট নতুন টিনের চৌচালা স্কুল ঘরটি গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ ঝড়ের কবলে ভেঙ্গে পড়ে যায়। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। হাইস্কুলটির ক্লাস শুরু হলে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারবে না।
ক্লাস বিঘ্নিত হওয়ায় বিপাকে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। স্কুলটিতে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। এর মধ্যে ঐ প্রলয়ংকরী ঝড়ে উক্ত টিনের ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে ক্লাস নিতে অনেক অসুবিধা হয়। ঝড়ের পর থেকে স্কুল ঘরটি ভেঙ্গে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসলে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে অভিভাবকদের।
এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছে অভিভাবকরা। স্কুলের কর্তৃপক্ষ জানান, ঐ স্কুলটিতে পাকা ভবন থাকলে ঝড়ে এ দশা হত না। তাই অতি দ্রুত ঝড়ে হেলে পড়া স্কুলটির নতুন ভবন নির্মাণের দাবী জানিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষে সু-দৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা হযরত আলী জানান, আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীরা বরাবর পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে আসছে। কিন্তু স্কুলটি ঝড়ে হেলে পড়ায় ক্লাস করার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তাই যাহাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মানের জন্য উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ জননেতা ইকবাল হোসেন অপু যদি সুদৃষ্টি দেন, অবশ্যই দ্রুত আমাদের ভেঙ্গে হাইস্কুলটি নির্মাণ সম্ভব হবে।
ম্যানিজিং কমিটির সদস্য দলিল উদ্দিন মাদবর বলেন, শিক্ষার্থীরা জানান খুব কষ্ট করে ক্লাস করতে হবে। নতুন ভবন নির্মানসহ এমপিওভূক্ত করার দাবী জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি’র সু-দৃষ্টি কামনা করেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, মির্জা হযরত আলী হাইস্কুলটি ২০১৭ সালে আওয়ামীলীগের শরীয়তপুর জেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিজ্ঞ পিপি এডভোকেট মির্জা হযরত আলী নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ৫টি টিনের ঘরবিশিষ্ট হাইস্কুলে ১৬ জন শিক্ষক, ১ জন অফিস সহকারী ও ১ জন এমএলএসএস রয়েছে। চরাঞ্চলের গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত করে তুলতেই এডভোকেট মির্জা হযরত আলী স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখন একে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন