শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের সহায়তা নিশ্চিতকরনে সেবাদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে অ্যাডভোকেসি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পরিচালনায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, আইওএম ও ব্র্যাকের বাস্তবায়নে জাজিরা উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের আর্থিক সহয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার। এ সময় ব্র্যাক জেলা সমন্বয়কারী সমীর কুমার কুন্ডু, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার, তথ্য আপা, কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্রের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সেবাগ্রহীতা এবং স্থানীয় ব্র্যাককর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলর বাসুদেব চন্দ্র রায় ও উপস্থাপনা করেন
আরএসসি ডিস্ট্রিক্ট্র ম্যানজার মো. আব্দুল্লাহ আল কাহাফ।
অংশগ্রহনকারীরা বলেন, অভিবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স আমাদের দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। অভিবাসীরা দেশে ফিরে আসার পর আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের কাছে সঠিক কাগজ পত্র না থাকার কারণে তারা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই যদি জাতীয় নীতি নির্ধারকরা কিছু নিয়ম শিথিল করে তাহলে বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের আরো ভালো ভাবে সেবা প্রদান করা যাবে।
জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের কেনাউল্লাহ মাদবরকান্দি গ্রামের মো. তোতামিয়া ব্যাপারীর ছেলে গ্রীস ফেরত মো. রাসেল ব্যাপারী (৩৩) বলেন, অবৈধভাবে ২০১১ সালে দুবাই যাই। পরে ওমান, ইরান ও তুরুস্ক হয়ে জীবন বাজি রেখে অবৈধপথে গ্রীস পৌঁছাই। সেই সময় আমার সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা লেগেছে। জমি বিক্রি করে ও ঋণ করে বিদেশ যাই। ১০ বছর গ্রীসে ছিলাম। সেখানে রেস্টুরেন্টে কাজ করতাম। পুলিশ ও ইনকাম টেক্সের অফিসারের ভয়ে প্রতিদিন কাজ করতে পারতাম না। পালিয়ে থেকে কাজ করতে হতো। পরে পুলিশের হাতে ধরা পরি। ছয় মাস জেল খেটে ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে। এখন আমি বেকার। অবৈধপথে বিদেশ গিয়ে সব হারিয়েছি। অবৈধপথে আর যেন কেউ বিদেশ না যায়।
প্রধান অতিথি বলেন, রেমিটেন্স যোদ্ধারা যেহুত আমাদের দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে টাকা আয় করে দেশে পাঠায়, তাই তারা যখন দেশে ফিরে এসে কোন আর্থিক কাজে যুক্ত হতে চায় তখন আমাদের উচিত তাদের আর্থিক সহযোগিতা করা। প্রত্যাশা প্রকল্প থেকে যেভাবে সহায়তা করতেছে সেটা প্রশংশা পাওয়ার যোগ্য।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ তাদের সেবা সঠিক ভাবে যেন দিতে পারে সেজন্য নীতি নির্ধারক পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি করতে হবে। বিদেশ ফেরতদের জন্য পৃথক নির্দেশনা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন