শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

ইউএনও কামরুল হাসান সোহেল যখন মা-ইলিশ ক্রেতা !

ইউএনও কামরুল হাসান সোহেল যখন মা-ইলিশ ক্রেতা !

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কামরুল হাসান সোহেল নিজে ইলিশ মাছের ক্রেতা সেজে কয়েকজন ক্রেতা-বিক্রেতাকে হাতেনাতে ধরেন এবং নদীর পার হতে সেই সাথে নদী হতে স্পিড বোট নিয়ে ধাওয়া করে ২০মিনিটে জব্দ করলেন একটি স্পিড বোট।

মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর বিকাল পাঁচটায় জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফি খলিফার বাড়ির কাছে পদ্মানদীর পাড়ে সিভিল ফোর্স সহ উপস্থিত হন ইউএনও কামরুল হাসান সোহেল। এ সময় তিনি ও তার টিম সাধারন মানুষের মতো করে মাছ ক্রয় করার মতো ক্রেতার ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়ে, ইলিশ মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের সময় হাতেনাতে পাঁচজনকে আটক করেন।পরে সেখান থেকে তাদের জাজিরা থানায় পৌছে দিয়ে রাত ১০টায় আবারো নামেন নদীর অভিযানে ঠিক তখন তার নজরে আসে স্পিড বোট নিয়ে ধরতে আসা জেলেরা; তখন তিনি তাদের ধাওয়া দিলে, স্পিড বোটে থাকা জেলেরা পাথর নিক্ষেপ করলে ইউএনও মহোদয় কৌশলে সুযোগ দিয়ে ২০মিনিটের এক দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে ঢেউয়ের আতংক তুলে স্পিড বোটটি ধরতে সক্ষম হন। জেলেরা নদীতে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। রাতের বেলায় জেলেদের মৃত্যুর কথা চিন্তা করে তাদের পিছনে আর সময় অপচয় করেননি।

পরে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কামরুল হাসান সোহেল আটককৃতদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দিয়ে হাজতে প্রেরণ করেন।

আটককৃতরা হলো, বড়কান্দি ইউনিয়নের চেরাগ আলী সরদার কান্দি গ্রামের নজরুল শেখের ছেলে রুবেল শেখ(৩০), একই ইউনিয়নের শেখ কান্দি গ্রামের আল আমিন মাদবর (৪৫), কাচারী কান্দি গ্রামের সলেমান সরদার(৫২), লতিফ মৌলভীর কান্দি গ্রামের লালচান মাদবর (৩০) ও পালেরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ দড়িকান্দি গ্রামের বাদল মোল্লা(২৮)।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কামরুল হাসান সোহেল জানান, আমরা মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করে যাচ্ছি।

এমতাবস্থায় জানতে পারি কিছু কিছু জায়গায় অবৈধভাবে মাছ ধরে ক্রয়-বিক্রয় করছে কিছু অসাধুরা। তাই আমি নিজে ক্রেতা সেজে কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দেই।


error: Content is protected !!