শরীয়তপুরের জাজিরায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের মদদে এক অসহায় পরিবারের এক একর ২০ শতক জমি জোর পূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে এক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তাঁর ভাইদের বিরুদ্ধে । উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের দাইমুদ্দিন খলিফাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার কার্যালয় ও জাজিরা থানায় অভিযোগ না নেয়ায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

জেলা প্রশাসক বরাবর ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাইমুদ্দিন খলিফাকান্দি এলাকায় এক একর ২০ শতক জমির পৈত্রিক ও ক্রয় সূত্রে মালিক মনসুর আলী মনছুর। জমিগুলো ১৯৮৬ সালে ওই এলাকার তোতা মিয়া চোকদারকে (৬০) চুক্তিতে (কটে) দেয় মনজু। কিন্তু চুক্তির (কট) মেয়াদ শেষ হয়ার পরও তোতা মিয়া, তাঁর ভাই ডেমরা থানার প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (৪৯), রাজ্জাক চোকদার (৭০) সেই জমি দখল করে রেখেছেন। সেই জমিতে ওসি ও তাঁর ভাইয়েরা দোচালা টিনের ও পাকা দেয়াল করেছেন এবং ফসলি জমির ফসল ভোগ করছেন। এবিষয় নিয়ে একাধিকবার দরকার সালিশ হলে মনজু তাঁর জমি ফেরত পাননি। ওসির পরিবারের দাবি, মনছুকে টাকা দিয়ে মৌখিকভাবে জমি ক্রয় করেছেন তারা। বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কুদ্দুস বেপারী (বোমা কুদ্দুস) পক্ষের লোক হওয়ায় মনছুর জমি দখলে রেখেছেন ওসি জহিরুল ইসলাম ও তাঁর ভাইয়েরা। জমি ফেরত চাওয়ায় মনজু ও তাঁর স্ত্রী মাসহুদা বেগমকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন ওসি ও তাঁর ভাইরা। এব্যাপারে পুলিশ সুপার কার্যালয় ও জাজিরা থানায় অভিযোগ না নেয়ায় গত ২৭ এপ্রিল জমি ফেরত পেতে ও নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মনছুর স্ত্রী মাসহুদা বেগম।

জুলাই গন-অভ্যুত্থানের সময় ৫ আগষ্টের আগ পর্যন্ত ডেমরা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। ৫ আগস্টের পরে তাকে বান্দরবান জেলার পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানায় পরিবার। তার মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করছেন না।

দাইমুদ্দিন খলিফাকান্দি এলাকার মোরশেদ হাওলাদার, হাফিজ মিয়া, জয়নাল মাল বলেন, জমি মনছু চৌকিদারের। কিন্তু ওসি জহিরুল ইসলামের ক্ষমতা দেখিয়ে তাঁর ভাই তোতা চোকদার, রাজ্জাক চোকদার ও ইয়ারবকশ চোকদার মাটি ভরাট করে জমি দখল করে নিয়ে গেছে। চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ওসির লোক। তাদের কারনে মনছুর অভিযোগ থানায় নেয় না। মনছু গরীব হওয়ায় বিচার পাচ্ছেন না বলে জানান তারা।

দাইমুদ্দিন খলিফাকান্দি এলাকার নুরু বেপারীসহ
অন্যান্য সালিশরা বলেন, ৪ থেকে ৫ বার দরবার সালিশ ডাকা হয়েছে। কিন্তু ওসি জহিরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার দরবার মানেন না। সালিসে ন্যায্য কথা বলতে গিয়ে ওসির পরিবারের লোকজনের কাছে আমরা মারধরও খেয়েছি। থানায় মামলা করতে গেলে আমাদের মামলাও নেয়নি। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন তারা। ওসির পরিবারের সাথে চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীরা রয়েছেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মনছুর স্ত্রী মাসহুদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ওসি জহিরুল ইসলাম ও তোতা মিয়া চোকদারকে জমি চুক্তিতে (কটে) দেই। কিন্তু চুক্তির মেয়ার শেষ হওয়ার পরে তারা আমাদের জমি জোর পূর্বক দখল করে নিয়েছে। দরবার সালিশ হলেও তারা জমি ফেরত দিচ্ছে না। জমি ফেরত চাইলে ওসি জহিরুল ও তাঁর ভাইরা আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন। আর পুলিশ সুপার কার্যালয় ও জাজিরা থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে ওসি জহিরুলের নাম দেখে অভিযোগ নেয়নি।

তবে, ওসি জহিরুল ইসলামের ভাই তোতা মিয়া চোকদার বলেন, দুই শতাধিক মানুষ ও সালিশ নিয়ে মনছুরের কাছ থেকে বায়না সূত্রে আমরা জমি কিনেছি। বায়নাপত্র করলেও আমাদেরকে জমি দলিল করে দিচ্ছে না মনছুর। আমার ভাই ওসি, কিন্তু আমরা কখই ওসির প্রভাব দেখাইনি।

এব্যাপারে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জাজিরা বিলাশপুরের বাসিন্দা মাসহুদা বেগমের জমি এক পুলিশ সদস্য ও তাঁর পরিবার জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে বলে জানতে পেরেছি। পুলিশের কাছে অভিযোগটি এখনও আসেনি, অভিযোগ পেলে আমরা অনুসন্ধান করে দেখবো। এখানে যদি পুলিশের বিরুদ্ধে জরিত থাকার খবর পাওয়া যায় অবশ্যই আইনানুগ তাঁর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বলেন, অভিযোগটি এখনও আমার হাতে এসে পৌছায়নি। ডাক ফাইলে থাকতে পারে। তদন্ত করে সত্যতা পেলে অভিযোগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box