• ব্রেকিং নিউজ

    শৌলপাড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

    রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক

    প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০১৯ সময়: ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ 262 বার

    শৌলপাড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

    শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর গ্রামে আদালত প্রদত্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা অমান্য করে নালিশী জমিতে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মালেক বেপারীদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মালেক বেপারীর সহোদর খালেক বেপারী এই অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের নির্দেশে নালিশী জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে নোটিশ করেছেন পালং থানা পুলিশ। আদালত ও থানা পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে তরিঘরি করে ভবন নির্মানের কাজ করছেন বিবাদীগণ।
    মামলার আর্জি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী খালেক বেপারী ও বিবাদী মালেক বেপারী, হালেম বেপারী, এবং জালাল বেপারী গয়ঘর গ্রামের মরহুম দলিল উদ্দিন বেপারীর ছেলে। দলিল উদ্দিন বেপারীর মৃত্যু পরবর্তী বিবাদী মালেক বেপারী, হালেম বেপারী ও জালাল বেপারী বাদী খালেক বেপারীকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে জোরে ভোগদখল করছে। কিছুদিন পূর্বে বিবাদী মালেক বেপারী অন্যান্য বিবাদীদের সহায়তায় নালিশী জমিতে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করে। তখন মামলার বাদী আইনের স্মরণাপন্ন হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করে। আদালত নালিশী জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পালং মডেল থানাকে নির্দেশ প্রদান করে। পালং মডেল থানার এস.আই. এস্কেন্দার আলী শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। আদালত ও পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে বিবাদী পক্ষ অতিরিক্ত শ্রমিক দিয়ে দিনরাত করে পাঁকা দালান স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
    বিবাদী হালেম বেপারী জানায়, তাদের পিতার জীবদ্দশায় পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা করে দিয়েছে। বাদী খালেক বেপারীকে তার পিতা অন্যত্র বসত বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছে। সেই বাড়িতেই বাদী বসবাস করে। পৈত্রিক সম্পতিতে বাদীর কোন দখল বা দাবী থাকার কথা না। এখন তারা (বিবাদীগণ) পৈত্রিক বাড়িতে পাঁকা দালান নির্মাণকালে বাদী বাঁধা প্রদান করে। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক দরবার সালিশী হয়েছে। বাদী খালেক অনেক সময় দরবারে উপস্থিত হয়নি। আবার কখনও উপস্থিত হলে সেই মর্মে কোন কাগজপত্র উপস্থিত করতে বাদী ব্যর্থ হয়েছে। আমরা মনে করছি নালিশী জমিতে যেহেতু বাদীর কোন দখল নাই সেহেতু নালিশী জমিতে পাঁকা দালান নির্মাণে আর কোন বাঁধা থাকবে কেন। তাই দালন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি।
    বাদী খালেক বেপারী জানায়, সে তার মামা রহম আলী খলিফার কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। সেই জমি ক্রয়ে তার পিতার কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তার পিতার মৃত্যু পরবর্তী বিবাদী মালেক বেপারীগণ পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে তাকে (বাদী) বঞ্চিত করতে বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করে আসছে। গত রমজান মাসে নালিশী জমিতে পাঁকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করলে তিনি বিবাদীদের বাঁধা প্রদান করেন। বিবাদীগণ বাঁধা উপেক্ষা করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ায় তিনি আদালতের স্মরানাপন্ন হয়। আদালত নালিশী জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আদেশ প্রদান করেন। সেই আদেশ উপেক্ষা করে বিবাদীগণ তরিঘরি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নির্মাণ কজে বাঁধা প্রদান করলে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা আছে বলে তিনি আইনী সহায়তা কামনা করছেন।
    বাদী-বিবাদীদের মামা ও বাদীর নিকট জমি বিক্রেতা রহম আলী খলিফা জানায়, তিনি জমি বিক্রির প্রস্তাক করলে বাদী খালেক বেপারী জমি ক্রয়ে রাজী হয়। তিনি খালেক বেপারীর কাছে ১২ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। এই জমি ক্রয়ে তার ভগ্নিপতির (বাদী-বিবাদীদের পিতা মরহুম দলিল উদ্দিন বেপারীর) কোন সম্পৃক্ততা ছিল না।
    নোটিশকারী পুলিশ কর্মকর্তা এস.আই এস্কেন্দার আলী বলেন, আদালতের নির্দেশ প্রপ্ত হয়ে নালিশী ভূমির শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে উভয় পক্ষকে নোটিশ করি। একই সাথে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। ইতোমধ্যে দুইবার নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। যেহেতু ভাই-ভাইদের মধ্যে বিবাদ তাই আগামী শনি অথবা সোমবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিবাদীয় বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করব।

    :: শেয়ার করুন ::

    Comments

    comments

    সংবাদটি ফেইসবুকে শেয়ার করুন

    দৈনিক রুদ্রবার্তা/শরীয়তপুর/০১ আগস্ট ২০১৯/


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক রুদ্রবার্তা

  • error: নিউজ কপি করা নিষেধ!!