মেঘনা নদীর ওপর শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌপথে নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ক্যাবলস্টেড ও সর্ববৃহৎ ঝুলন্ত সেতু। ৮ দশমিক শূন্য ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই চার লেনের সেতু নির্মাণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে দেশের ৩২ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায়।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন ধাপে নির্মিতব্য সেতুটিতে থাকবে ২১শ মিটার দীর্ঘ স্প্যান। নদীর নাব্যতা ও নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে মাঝ বরাবর ৭শ মিটার এবং দুই পাশে ৪শ ও ৩শ মিটার দূরত্বে স্প্যান রাখা হবে। পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা হবে ৩০ মিটার।

২০২২ সালে শুরু হওয়া সমীক্ষায় পরিবেশ, নদী ভাঙন ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় ইতিবাচক ফল আসে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ ও জাপানের সেভেন প্ল্যাটফর্ম অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে।

সেতুটি নির্মিত হলে ঢাকার ওপর যানবাহনের চাপ কমবে, ৬৭ কিলোমিটার দূরত্ব হ্রাস পাবে এবং ফেরি পারাপারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। উপকৃত হবে প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক ইদ্রিস মিয়া বলেন, “ফেরির ভোগান্তি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সেতু হলে আমাদের জীবন বদলে যাবে।” ব্যবসায়ী দেলোয়ার বেপারী জানান, “বন্দর টু বন্দর সরাসরি সংযোগে ব্যবসা সহজ হবে।”

সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক মা. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী বলেন, “এটি পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রকল্প।” সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, “সেতুটি দেশের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।”