বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক সামরিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের অর্থবল, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক সক্ষমতা এবং তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি মিলিয়ে একটি ‘যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো’ গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ বা সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা নীতির আদলে এই জোটটি গঠিত হতে যাচ্ছে, যাকে বিশ্লেষকরা অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
বার্তাসংস্থা ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই কাঠামো অনুযায়ী এক সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা মানেই তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এই জোটে সৌদি আরব অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে, পাকিস্তান তার পারমাণবিক ও বিশাল জনবল সরবরাহ করবে এবং তুরস্ক তার অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ও সামরিক দক্ষতা দিয়ে নেতৃত্ব দেবে। চলতি সপ্তাহেই আঙ্কারায় তিন দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে প্রথম যৌথ সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কৌশলবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাস এবং ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক সমর্থনের বিপরীতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই দেশগুলো এই জোট গড়ছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় তুরস্কের প্রকাশ্য অবস্থান এই সম্পর্কের রসায়নকে আরও মজবুত করেছে। এছাড়া তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ (KAAN) প্রকল্পেও সৌদি ও পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন