ঢাকা: সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ‘আড়ালে’ রাখার সুপরিকল্পিত চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার দাবি, বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে আমন্ত্রণ আসা সত্ত্বেও তৎকালীন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা তার বিদেশ সফরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি জানান, গত ডিসেম্বরে কসোভোতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘কি-নোট পেপার’ উপস্থাপনের আমন্ত্রণ থাকলেও তাকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। একইভাবে কাতারের আমিরের পক্ষ থেকে বিশেষ একটি সামিটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ ছিল, যেখানে কেবল রাষ্ট্রপ্রধানেরই অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সফর ঠেকাতে ‘ভিন্ন কৌশল’ অবলম্বনের অভিযোগ তোলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির বর্ণনা অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে একটি আগেভাগেই তৈরি করা খসড়া চিঠিতে সই করতে চাপ দেওয়া হয়। চিঠিতে লেখা ছিল, ‘রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে ব্যস্ততার কারণে’ তিনি কাতারের ওই সামিটে অংশ নিতে পারছেন না। রাষ্ট্রপতি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতি এমন কোনো কাজে ব্যস্ত থাকতে পারেন না যার জন্য আন্তর্জাতিক সামিট বাতিল করতে হয়। এর প্রতিবাদে তিনি ওই চিঠিতে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে পাল্টা বার্তা পাঠান এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সতর্ক করেন।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ করে বলেন, শুধু বিদেশ সফরই নয়, দেশের ভেতরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যাওয়ার দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় রেওয়াজও আটকে দেওয়া হয়েছিল। তাকে আড়ালে রাখার এই মানসিকতা তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর পেছনে সরকারের কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি ধারণা করছেন।

মন্তব্য করুন