ঢাকা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরে বঙ্গভবনে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে অপসারণের মাধ্যমে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির নানামুখী ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তবে বিএনপি ও সশস্ত্র বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে সেই চক্রান্ত সফল হয়নি।

রাষ্ট্রপতি জানান, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছু নেতার চাপে তাকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। তার ভাষায়, “বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা আমার অপসারণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তারা না থাকলে হয়তো ষড়যন্ত্র সফল হতো।” এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তার স্থলাভিষিক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। ওই বিচারপতির সঙ্গে এক ঘণ্টার বৈঠক হলেও তিনি প্রস্তাবে রাজি হননি।

সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, তিন বাহিনীর প্রধানরা বিভিন্ন সময় বঙ্গভবনে এসে তাকে মনোবল দিয়েছেন। এমনকি বঙ্গভবনের সামনে যখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি বা ‘মব’ তৈরি করা হয়েছিল, তখনো সশস্ত্র বাহিনী তার নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করার প্রক্রিয়ার উৎস তিনি নিজেই ছিলেন। অথচ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা একবারের জন্যও তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে তাকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বিশ্বের সব হাইকমিশন থেকে রাতারাতি আমার ছবি সরিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবসের বাণীতে রাষ্ট্রপতির ছবি বন্ধ করা ছিল আমাকে জনচক্ষুর আড়ালে রাখার প্রথম ধাপ।” দীর্ঘ দেড় বছরের এই ‘ঝড়’ মোকাবিলা শেষে গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন বলে জানান।