• ব্রেকিং নিউজ

    শিক্ষক আব্দুল হালিম গ্রেফতারের ভয়ে এখনও বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না

    রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক

    প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০১৯ সময়: ১০:২৯ অপরাহ্ণ 77 বার

    শিক্ষক আব্দুল হালিম গ্রেফতারের ভয়ে এখনও বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না

    শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম এখনও তার কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। একজন মানুষ গড়ার প্রথম কারিগর হয়েও একাধিক মামলা ও সাধারণ ডাইরীভুক্ত অভিযুক্ত হয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বলা হয় একজন শিক্ষার্থীর ‘সেকেন্ড প্যারেন্টস’। সেই শিক্ষক যদি নানা অপকর্মসহ অপরাধের সাথে জাড়িত থাকে তাহলে শিক্ষার্থীরা কি শিখবে? এমন শিক্ষকের আদর্শে শিক্ষিত সন্তানই পিতা-মাতাকে কী দিবে।
    এবার বলবো অসংখ্য সাধারণ ডাইরী এবং ফৌজারী মামলার এজাহার নামীয় আসামি ও শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৯৯ নং খায়ের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বরত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম এর অপকর্ম ও তারদ্বারা সংঘঠিত অপরাধের কথা। চলতি মাসের ১৫ তারিখ রাতে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিমের নেতৃত্ব ও হুকুমে একটি ফৌজদারী অপরাধ সংগঠিত হয়। সেখানে হত্যার উদ্দেশ্যে মরপিট ও চুরির মতো অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে পালং মডেল থানায় ১৬ জানুয়ারী ২০ নং মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় শিক্ষক আব্দুল হালিম প্রধান আসামী হয়ে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আংগারিয়া ইউনিয়নের আবুল বাশার ফকির নামে এক ব্যক্তি শিক্ষক আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। পুলিশের ভয়ে পালিয়ে গিয়ে গত ২০ জানুয়ারী পর্যন্ত পালিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে আসেন তিনি। গত ২১ জানুয়ারী বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে দায়িত্বরত সহকারী শিক্ষা অফিসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিমকে কর্মস্থলে না পেয়ে লাল কালিতে অনুপস্থিত দেখিয়েছেন। তারপর একদিন সদরে কাজের কথাবলে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণের নামে দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন। গতকাল শনিবার ছুটি ছাড়াই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
    গত বছরের ১৭ জুলাই ওই বিদ্যালয়ে যোগদানের পরে ৬ মাসে অপরাধের পাহাড় গড়ে রেকর্ড করতে সক্ষম হয়েছেন শিক্ষক আ. হালিম। বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের লোহার এঙ্গেল ও ভিটির মাটি কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে বিক্রি, নিজের স্বেচ্ছাচারিতা জোরালো করতে গোপনে এসএমসি’র পকেট কমিটি গঠন, সহকারি শিক্ষক/শিক্ষিকাদের সাথে অসৌজন্য আচরণ, অভিভাকদের নামে থানায় সাধারণ ডাইরী করে হয়রানী করাসহ কোন অপকর্ম তার দৃষ্টি এড়ায়নি।
    আব্দুল হলিম ওই যোগদানের দেরমাসের মাথায় গোপনে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠনে অনিয়ম তুলেধরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী অভিভাবকদের স্বাক্ষরিত একটা অভিযোগ জমা পড়ে জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে। তদন্তে অনিয়মের বিষয়টি প্রতিয়মান হওয়ায় গোপনে গঠিত অবৈধ কমিটি বাতিল করেন কর্তৃপক্ষ। সে কারনে স্থানীয় কতিপয় মুরব্বির নামে থানায় সাধারণ ডাইরী করে হয়রানী করেন শিক্ষক আব্দুল হালিম।
    তিনি নিজেকে অতিরিক্ত চালাক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষকে বোকা ভেবে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। বিদ্যালয়ের পূূরোন টিনশেড ভবনের স্থলে বহুতল নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হলে গত ১৬ অক্টোবর স্থানীয় অনিক খান, শাহাদাত হোসেন ও জসিম খানের সহায়তায় মাহেন্দ্র গাড়ি দিয়ে (মাটি বহনকারী) ভিটির মাটি কেটে নেয়। স্থানীয়রা বাঁধা দিলে পরবর্তীতে মাটি দিয়ে বিদ্যালয়ের পুরোন ভবনের ভিটি ভড়াট করার প্রতিশ্রুতি দেয় এ শিক্ষক। একই সাথে পূরাতান ভবনের লোহার এঙ্গেল বিক্রি করে দেয়। এসএমসি’র সাবেক সভাপতি আঃ ছাত্তার খান, জব্বার তালুকদারসহ ১১জন অভিভাবক লিখিত ভাবে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়। এ বিষয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক আঃ ছাত্তার খান, জব্বার তালুকদার, রুহুল আমিন তালুকদার ও ফারুক মুন্সীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডাইরী করে হয়রানী করেন।
    এছাড়াও এ প্রধান শিক্ষক আঃ হালিম সরদার/আঃ হালেম সরদার/হালিম মাস্টার নামে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পালং থানার ১৪ নং ফৌজারী মামরার এজাহার নামীয় আসামী, ২০০২ সালের একই থানার ৩ নম্বর মামলায় ফৌজদারী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার এজাহার নামীয় আসামী, একই সালের ২০ জানুয়ারী একই থানার ১০ নম্বর ফৌজদারী মামলার এজাহার নামীয় আসামী, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে একই থানায় ১১ নম্বর ফৌজদারী মামলার আসামী ছিলেন। এ ছাড়াও এ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাজ্জাক কাজী, আবুল বাসার ফকিরসহ স্থানীয় অসংখ্য ব্যক্তি পালং মডেল থানায় একাধিক সাধারণ ডাইরী করেছে। চলতি মাসেও তিনি পালং থানায় ২০ নম্বর ফৌজারী মামলার প্রধান আসামী হয়েছেন। স্থানীয় ইউপি মেম্বার আকিবর খানের ছত্রছায়ায় এ প্রধান শিক্ষক এতো অপকর্ম করতে সাহস পায় বলেও এলাকাবাসী দাবী করেছে।
    প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হলিম বলেন, আমি একাধিক মামলার আসামী তা আদালত জানে। ডিপার্টমেন্ট আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্যা গ্রহন করেছিল। আমি ৯ মাস সাসপেন্ট ছিলাম। বর্তমানেও আমার নামে একটা নতুন মামলা হয়েছে। তবুও আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাই। ২১ জানুয়ারী উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসারের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছুটি চাই। আমার ছুটি মঞ্চুর না করে শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়ে যায়। বিদ্যালয়ে আমাকে না পেয়ে অনুপস্থিত দেখিয়েছে। হয়তো আমি ওই দিনের বেতন পাবনা। এ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোন ভিত্তি নাই। আমি রুটিন অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণীর গণিত ক্লাসও করাই। আমি বিদ্যালয়ে যেতে না পারলে বেতন পাব না।
    এসএমসি সদস্য আকিবর খান বলেন, আমি ও আমার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমি বিদ্যালয় থেকে কোন পানির ট্যাংক নেইনি। আমার ছেলেও বিদ্যালয়ের মাটি ও লোহার এঙ্গেল বিক্রির সাথে জাড়িত না। বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনের লোহার এঙ্গেল ও ভিটির মাটি নিয়েছে সোহেল খান।
    এসএমসি সাবেক সভাপতি আ. ছাত্তার খান বলেন, হেড মাস্টার আব্দুল হালিম এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই একাধিক অনিয়ম করে আসছে। এলাকার লোকজন ও শিক্ষার্থী অভিভাবকদের না জানিয়ে একটা পকেট কমিটি করে শিক্ষা অফিসে জমা করে এ হেড মাস্টার। এলাকার লোকজন জানতে পেরে কমিটি বাতিলের আবেদন করে। শিক্ষা অফিসার এসে ‘হ্যা’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমে সেই পকেট কমিটি বাতিল হয়। পরবর্তীতে হেড মাস্টার পুনরায় কমিটি করার জন্য এলাকাবাসীকে ডাকে। হেড মাস্টারের ডাকে আমরা বিদ্যালয়ে যাই। সেখানে আমাদের ইংরেজীতে গালাগালি করে। আমরা বিদ্যালয় থেকে চলে আসি। পরবর্তীতে হেডমাস্টার আমাদের নামে থানায় সাধারণ ডাইরী করে। পুলিশ তদন্তে এসে কোন সত্যতা না পেয়ে হেড মাস্টারকে মন্দ বলে। এ মাস্টার একাধিক মামলার আসামী। পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়। মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যায়। গত সোমবার শিক্ষা অফিসার এসে হেড মাস্টারকে না পেয়ে হাজিরা বাতিল করেছে। এলাকাবাসী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সাথে এ মাস্টারের কোন সম্পর্ক নাই। যে সকল প্রতিষ্ঠানে এ মাস্টার চাকরী করেছে সে সকল প্রতিষ্ঠানের অবস্থা করুণ।
    আংগারিয়া ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হামিদুল হক বলেন, এলাকাবাসী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার বিদ্যালয়ে গিয়ে হেড মাস্টারকে না পেয়ে অনুপস্থিত দেখিয়েছি। এ মাস্টার শুধু মামলায় পড়ে না মামলাই এ মাস্টারের পিছনে পড়ে।
    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, অভিযুক্ত হেড মাস্টার চলতি মামলার আসামী এমন তথ্য থাকলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে সাসপেন্ড করবো। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করব।

    :: শেয়ার করুন ::

    Comments

    comments

    সংবাদটি ফেইসবুকে শেয়ার করুন

    দৈনিক রুদ্রবার্তা/শরীয়তপুর/২৬ জানুয়ারি ২০১৯/


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত


    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক রুদ্রবার্তা

  • error: নিউজ কপি করা নিষেধ!!