প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার ফেনী সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি ফেনীতে তাঁর প্রথম সফর। দিনব্যাপী সফরে তিনি পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ভাতা প্রদান, নদী-খাল পুনঃখনন প্রকল্প এবং রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছবেন। সেখানে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ, নদী পুনঃখনন এবং সেচ অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজী উপজেলায় বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বর্ষা শেষে আবারও নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের লক্ষ্য রয়েছে। চলতি বছর এরই মধ্যে ১১০টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে ৩৭৭ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬০ কিলোমিটার।
দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পরে দুপুর ২টার দিকে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় গিয়ে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত প্রায় এক মেগাওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার সিস্টেম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধনের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানি ভাতা প্রদান করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট পর্যায় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চলতি বছরের ১০ মার্চ ১৪টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তিন ধাপে ৫৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এখন নিয়মিত ও বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফেনী থেকেই নিয়মিত কার্যক্রমের সূচনা হচ্ছে। এরপর ১৫ অক্টোবরের পর দেশব্যাপী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ফেনীতে আজ সুবিধাবঞ্চিত নারীপ্রধান পরিবারের ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এর মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্ড তুলে দেবেন। এ ছাড়া দুস্থ ও অসহায় ১০০ জনকে বিশেষ অনুদান, দরিদ্র মেধাবী ৫০ শিক্ষার্থীকে বিশেষ অনুদান, বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ৩০ জনকে আর্থিক সহায়তা এবং প্রতিবন্ধী ২০ জনকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এসব শ্রেণির পাঁচজন করে উপকারভোগী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সহায়তা গ্রহণ করবেন।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। উদ্বোধনী পর্যায়ে ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলার ৭৭টি কৃষি ব্লকের এক লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা বছরে একবার দুই হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। মাঝারি ও বড় কৃষকরা আপাতত এ সুবিধার আওতায় থাকছেন না।
এরই মধ্যে প্রায় ১৯ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য দেশব্যাপী দুই কোটি ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা।
এদিকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানি ভাতা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের দুই লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় সেবাদানকারীকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচির জন্য বাজেটে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও সেখানে অবস্থান করছেন। সফরের সব কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাত ৯টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন