অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহীতে কর্মরত থাকার সময় গত বছরের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর টুটুল চক্রবর্তীকে কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতিসহ ছুটি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৬, ১৭ ও ১৮ নভেম্বর তাঁকে নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছিল। তবে তিনি ১৩ নভেম্বর প্রস্থান প্রতিবেদন জমা না দিয়েই কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন নিজেকে রাজশাহীর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন টুটুল চক্রবর্তী। পরে শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ১০টার কিছু আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-১৬২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
এর আগেও একাধিকবার একই পরিচয় ব্যবহার করে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ কারণে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরেও আসেন তিনি। তাঁর এ কর্মকাণ্ডে জনসমক্ষে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ অধিদপ্তরের চিঠির পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগনামা দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নোটিশের জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে ২ এপ্রিল একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত ৭ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি গত ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন। এরপর ১৬ জুন তাঁকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
পরবর্তী সময়ে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এ বিষয়ে গত ২৩ জুলাই সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত চাওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশন তাঁকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে মত দেয়। পরে গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এই গুরুদণ্ড অনুমোদন করেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, টুটুল চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং রাজশাহীর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁকে ‘চাকুরি হতে বরখাস্তকরণ’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন