সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী আন্তনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কালোবাজারি বন্ধে ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি চালু থাকলেও সিলেটে নির্ধারিত দামে টিকিট পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। অনলাইনে টিকিট না পেয়ে অনেককে দালাল ও কালোবাজারিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ যাত্রীদের। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো উধাও হয়ে যাওয়ায় রেলওয়ের টিকিট বিক্রিব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যাত্রীদের এ ভোগান্তির বিষয়টি আমলে নিয়ে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমান স্বপ্রণোদিত হয়ে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে মামলা করেছেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের আদালতে করা সিআর মামলা নম্বর ০১/২০২৬-এর তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
গত ১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআইয়ের সিলেট কার্যালয়ে পৌঁছায়। পরে পিবিআই সিলেটের উপপরিদর্শক আব্দুল আহাদকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন। টিকিট বিক্রির বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভুক্তভোগী যাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রির জন্য ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে করা মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পিবিআই। উপপরিদর্শক আব্দুল আহাদকে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তে অনলাইনে টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার পর এত দ্রুত বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে টিকিট কালোবাজারির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত, উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। নির্দিষ্ট দিনের টিকিট অনলাইনে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ টিকিট শেষ হয়ে যাওয়াই এ অসন্তোষের মূল কারণ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় টিকিট বিক্রির তথ্য পর্যালোচনার পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, টিকিট বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় একটি চক্র অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক টিকিট সংগ্রহ করে। পরে সেসব টিকিট যাত্রীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা নির্ধারিত মূল্যে টিকিট কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি এ পরিস্থিতি সিলেটের পর্যটন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুল আহাদ বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১১ থেকে গত ১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেদিন থেকেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ট্রেনের টিকিট বিক্রিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে অনলাইনে টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার পর কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো শেষ হয়ে যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

মন্তব্য করুন