সিরাজগঞ্জে জন্মপরিচয় বদলে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চাকরি করার পর তদন্তে প্রতারণার বিষয়টি উঠে আসে।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকের নাম আব্দুর রশিদ। বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুর রশিদের বাড়ি কামারখন্দ উপজেলার দশসিকা গ্রামে। তার প্রকৃত বাবা রুস্তম আলী ও মা রেহানা বেগম। কিন্তু ২০১৬ সালে চাকরি পেতে তিনি নিজের আপন খালু বীর মুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলীকে বাবা এবং কাশেম আলীর দ্বিতীয় স্ত্রীকে মা হিসেবে দেখান। কাশেম আলীর বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নে।
ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি পাওয়ার পর আব্দুর রশিদ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের ছোট হামকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে পাশের শিয়ালকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হলে তাকে সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে একই কায়দায় তার ভাই সালেহ আকরামও খালুকে বাবা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলীর মেয়ে আমেনা খাতুন। তিনি বলেন, তিনি তার বাবার একমাত্র সন্তান, তার আর কোনো ভাই-বোন নেই। অথচ তার বাবার নাম ও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে অন্যরা বছরের পর বছর ধরে সুবিধা নিচ্ছে।
তিনি শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন