তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ ব্যবস্থা কীভাবে গঠন করা হবে, এর কাঠামো কী হবে এবং বাছাইপ্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে বিকল্প কী হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা আছে। বিকল্প হিসেবে র‍্যাঙ্কড চয়েস ভোটের প্রস্তাবও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে তাঁদের মতামত ছিল বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো প্রস্তাব এলে সেটিও আলোচনায় বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, কাঠামো, গঠনের সময়সীমা এবং এমন বাছাই কমিটি নির্ধারণের বিষয় পরীক্ষা করে দেখা হবে, যাতে এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ না থাকে। সংসদে সংশ্লিষ্ট বিল উত্থাপনের পর বিতর্কের সময়ও বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রস্তাব আসতে পারে।

গুম ও নির্যাতন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা

বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য শুনেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির উপযোগী বিষয়গুলো সংবিধানে এবং অন্য বিষয়গুলো আইন বা বিধির মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দাবির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে আদালতের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার সুযোগ রয়েছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দুটি ব্যবস্থা আইনে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনী নিজে তদন্ত করবে না; অন্য বাহিনী তদন্ত করবে। এ বিষয়ে আইনে বিস্তারিত বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রসঙ্গে

পুলিশের মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার-সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের আট মাসের মেয়াদে কোনো ক্রসফায়ার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, আইনের কঠোর প্রয়োগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অসতর্কভাবে শব্দচয়ন হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের শব্দচয়ন সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কিছু ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, রাস্তায় আন্দোলনের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে এসে দাবি জানালে সেগুলো শোনার সুযোগ থাকত।