বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় তার জুনিয়র বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পিবিআই সদস্যরা দীপকে নিয়ে গেছেন। মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে তাকে নেওয়া হয়। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে দীপ
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়, যাকে পরিবারের সদস্যরা দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন। ফুটেজ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাদের দেখা হয়। হাত মেলানোর পর তারা আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে দীপ জানান, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা থাকায় তারা একটি ওয়ার্কশপে যান। মেরামতের পর তারা বাসায় ফিরে খাবার খান এবং এরপর দীপ চলে যান বলে তিনি দাবি করেন। তবে এ ঘটনায় দীপের ভূমিকা কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

তুরাগ নদ থেকে লাশ উদ্ধার
২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি লাশ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে লাশটি তাহসিফের বলে শনাক্ত করা হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের সন্দেহ
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে হত্যার আশঙ্কা জানিয়েছিলেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা।