প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরার অভিযোগে শরীয়তপুরে গত ২২ দিনে ১৬৯ জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন জাজিরা উপজেলার নাওডোবা থেকে গোসাইরহাট উপজেলার মাঝেরচর পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের নিয়োগ করা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ৪৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় এবং মোট ১৯২টি অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ১.০০৮ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়। এসব ইলিশ মাদরাসা, এতিমখানা ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি টাকা। জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

এই সময়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয় ৪০ বার, মাছঘাট ২৩৩ বার এবং আড়ৎ ৭১৮ বার। এসব ঘটনায় ১৮৪টি মামলা হয় এবং মৎস্য আইনে জেলেদের কাছ থেকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নের জন্য শরীয়তপুরে ৮০ কিলোমিটার পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ জন্য জেলার ২৮ হাজার ৯২৯ জন জেলেকে ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে; প্রতি জেলে পরিবার ২৫ কেজি করে চাল পাবে।

তিনি আরও জানান, জেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৪ হাজার ২০০ মেট্রিক টন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। নদীতে ইলিশ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে লিফলেট বিতরণ, ব্যানার-পোস্টার লাগানো, মাইকিং ও সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে।