পদ্মা সেতুতে একাধিকবার ফেরি ধাক্কা লাগাগানোর ঘটনার পরে কাঠালবাড়ি ফেরিঘাট বর্তমানে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা মঙ্গলমাঝীর ঘাট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ফেরিঘাটটি। এই ঘাটটিকে সত্তরমাদবরের ঘাট নামেও পরিচয় রয়েছে। যদিও দীর্ঘ একযুগ পূর্বে এই এলাকায় ফেরী ঘাট চালু ছিলো।

এক যুগ পরে আবার এই ঘাটে আবার ফেরি আসবে ভেবে শরীয়তপুরবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার দেখা গেলেও পরক্ষণে তা বিলীন হয়ে যায়। কারণ জানা গেছে হালকা যান ছাড়া কোনো ভারী গাড়ি পার হবে না এই ঘাট দিয়ে।

২৬ আগস্ট বৃহসপতিাবর সরেজমিনে মঙ্গলমাঝিরঘাটে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শরীয়তপুর-মাঝিরঘাট সড়কের উত্তর প্রান্তে পদ্মা নদীর শাসন বাঁধ ঘেঁষে জিও ব্যাগ ও বালু ফেলে ফেরিঘাট নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ২৭ আগস্ট শুক্রবারের মধ্যে ঘাট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ নৌ-যান কর্তৃপক্ষ। ঘাটের নির্মাণকাজ শেষ হলে মাদারীপুর জেলার শিবচরের বাংলাবাজার থেকে পন্টুন এনে মাঝিরঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হবে। তবে এই ঘাট দিয়ে শুধু হালকা যানবাহন চলাচল করবে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মো. ফয়সাল নির্মাণাধীন মাঝিকান্দি ফেরিঘাট থেকে দৈনিক রুদ্রবার্তাকে জানান, নদীর প্রবল স্রোতে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি পারাপার বিঘ্নিত হয়। ইতোমধ্যে দুইবার ফেরি পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা লাগে। তাই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ-পথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সে কারণে হালকা যান ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সীমিতভাবে ফেরি সার্ভিস চালু রাখার জন্য মাঝিকান্দি ফেরিঘাট চালু করা হবে। তাই দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে। পরবর্তীতে বাংলাবাজার ঘাট থেকে পন্টুন এনে ফেরি পারাপার চালু করা হবে। জাজিরা অংশে ভারী যান চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় আপাতত ভারী কোনো যান এই ফেরিতে পার হবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ফেরিঘাট চালু করতে কিছু দোকান সরিয়ে ফেলা হবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণকৃত জায়গায় রাস্তা করা সম্ভব হলে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হবে।

Facebook Comments Box