সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং
শরীয়তপুর পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক

শরীয়তপুর-নাওডোবা চার লেন সড়কের জমি অধিগ্রহণে সুবিধা নিচ্ছে অসাধু চক্র

শরীয়তপুর-নাওডোবা চার লেন সড়কের জমি অধিগ্রহণে সুবিধা নিচ্ছে অসাধু চক্র

পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক থেকে জাজিরা হয়ে শরীয়তপুর জেলা শহর পর্যন্ত প্রায় ২৯ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এটা আগেই জানতে পেরে এক শ্রেণীর অসাধু লোক অধিগ্রহনের মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে রাস্তার দুই পাশে গড়ে তুলেছে পাকা ভবন, দোকানপাট ও মার্কেট।

উদ্দশ্যমূলক ভাবে গড়ে তোলা ওই স্থাপনার মোটা অংকের টাকা পেতে অসাধু কিছু কর্মকর্তা পারসেন্টিসের বিনিময়ে মূল্য বাড়িয়ে ওই চক্রটিকে সুবিধা দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ওই অসাধু লোকগুলোকে সুবিধা পাইয়ে দিতে তাদের ইচ্ছেমতো নকশা করা হয়েছে। যার কারণে অসহায় গরীব মানুষ তাদের বসতঘর সহ ভিটেমাটি হারাতে বসেছে। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশ বক্সটিও ভেঙ্গে ফেলা হতে পারে। পুলিশ বক্সটি ভেঙ্গে ফেলা হলে এলাকায় চুরি ডাকাতি বেড়ে যাবে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। নাওডোবা এলাকার নাসির জমাদ্দার, জসিম জমাদ্দার সহ অনেকে জানান, এই এলাকায় একটি অসাধু চক্র আছে। সরকার জমি অধিগ্রহণ করবে শুনলে তারা ওই জমিতে ঘরবাড়ি তেরী ও গাছপালা লাগানো শুরু করে দেয়।

এর আগেও পদ্মা সেতু, রেল লাইল, সেনা ক্যাম্প ও তাতপল্লীর জন্য অধিগ্রহনের সময় তারা একই কাজ করেছে। এরপর কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সরকারী টাকা উঠিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে খেয়েছে। এখন পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক থেকে শরীয়তপুর জেলা শহর পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কথা শুনে ওই চক্রটি সড়কের দুই পাশে পাকা ভবন ও মার্কেট নির্মান করেছে। এখন যাতে অধিগ্রহনের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে পারে সেজন্য কিছু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তাদের ইচ্ছামতো নকশা তৈরী করেছে। যাতে অসাধু চক্র ও অসাধু কর্মকর্তারা লাভবান হতে পারে।

এর ফলে সাধারণ মামুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা তাদের বাড়িঘর ও ভিটেমাটি হারাবে। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশ বক্সটিও ভাঙ্গা যাবে। চুরি ডাকাতি ঠেকাতে এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি করার জন্য তারা নিজেরাই জমি দিয়েছে। নিয়ম হচ্ছে সড়কের দুই পাশ থেকে সমান ভাবে জমি অধিগ্রহন করা। কিন্তু সেটা না করে পশ্চিম-দক্ষিন পাশ থেকে বেশি নিচ্ছে জমি অধিগ্রহন করা হচ্ছে। আমরা চাই সড়কের দুই পাশে সমান ভাবে জমি অধিগ্রহন করা হোক। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বেশি জমি অধিগ্রহন করলে কারো কোন সমস্যা হবে না। তাতে পুলিশ বক্সটিও রক্ষা পাবে। এলাকাবাসী চান কাউকে বাড়তি সুবিধা না দিয়ে সঠিক ভাবে নকশা তৈরী করে জমি অধিগ্রহন করা হোক।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, নকশার প্রস্তাবনা অনুসারে অধিগ্রহনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এখানে অনিয়ম বা কাউকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। অনিয়মের সাথে কাউকে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আমাদের জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব। আর পুলিশ বক্সের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন আবেদন থাকলে বিষয়টি দেখা হবে। পদ্মা সেতুর সুফল যাতে শরীয়তপুরবাসী পান সেজন্য এই সেতুর সঙ্গে বিদ্যমান সড়কের সংযোগ তৈরি এবং সড়কটির উন্নয়নে এক হাজার ৬৮২ কোটি ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ‘শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা (পদ্মা ব্রিজ অ্যাপ্রোচ) সড়ক উন্নয়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া এ প্রকল্প ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। পুরো অর্থই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে।