বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে দেশে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলেও এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো উৎসবের আয়োজন নেই। রাষ্ট্রীয় শোক এবং মাধ্যমিক স্তরের বড় অংশের বই ছাপার কাজ বাকি থাকায় এক নিরুত্তাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম চলছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। এই পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে পূর্বনির্ধারিত বই উৎসব বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাঠ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা কেবল নিজ নিজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেবেন।
প্রাথমিক স্তরের প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রায় ৮ কোটি ৫৯ লাখ বই ইতিমধ্যে উপজেলাগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে মাধ্যমিকের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই স্তরে ১৮ কোটির বেশি বইয়ের প্রয়োজন থাকলেও এখন পর্যন্ত অর্ধেকের কাছাকাছি বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। অনেক শিক্ষার্থীই বছরের প্রথম দিনে সব বিষয়ের বই হাতে পাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিকের জন্য নির্ধারিত বইয়ের একটি বড় অংশের মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কাজ এখনো চলমান। মুদ্রণ জটিলতার কারণে মাধ্যমিকের অধিকাংশ শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ সেট বই পেতে মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। বছরের শুরুতে এমন সংকটে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

মন্তব্য করুন