যশোর শহরের শংকরপুরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের জামাতা পরশ মাত্র ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে তার শ্বশুরকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করিয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত ১৭ মামলার আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর রোববার (১ মার্চ) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শংকরপুর এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ১০-১২ জন হামলাকারী আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। শুটার মিশুক চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়। এই মিশনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৫ লাখ টাকা অগ্রিম এবং বাকি ১০ লাখ টাকা পরে দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন জামাতা পরশ। এমনকি ঘটনার দিন শুটার মিশুকের হাতে ১ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল তুলে দেন তিনি নিজেই।

ডিবির এসআই অলক কুমার দে জানান, শনিবার রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে মনিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে নিহতের জামাতা পরশ, সহযোগী সাগর এবং শুটার মিশুকসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনই আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ, যার নম্বর প্লেটে ‘হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ’ লেখা ছিল। পারিবারিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, তা আরও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।