বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে লোকদেখানো বিয়ের নাটক সাজিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সহকারী কমিশনার খান মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী এক নারী ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে মাহমুদুল হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ২ মার্চ কক্সবাজারের একটি হোটেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন মাহমুদুল। পরবর্তীতে রাজধানীর চকবাজার এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা বসবাস শুরু করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত বছরের ১ জুলাই মাহমুদুল তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে ২৪ জুলাই চকবাজার থানায় মামলা করতে গেলে ওসির মধ্যস্থতায় ২৭ জুলাই একটি কাজি অফিসে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া মাত্রই স্ত্রীকে রেখে পালিয়ে যান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে জানা যায়, ধর্ষণের মামলা ও সরকারি চাকরি বাঁচাতে তিনি বিয়ের নাটক করেছিলেন এবং পরে ওই নারীকে তালাক দেন।
এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান ওই নারী। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযুক্ত ডিবি কর্মকর্তা খান মাহমুদুল হাসান এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। তার আইনজীবী ইমরান হোসেন পাল্টা অভিযোগ করে দাবি করেন, ওই নারী তথ্য গোপন করে বিয়ে করেছেন এবং এর আগেও একাধিক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই ঘটনায় মাহমুদুল হাসান সিএমএম আদালতে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন বলেও তিনি জানান।

মন্তব্য করুন