বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির হিস্যা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি)–কেই মূল কাঠামো হিসেবে রাখার কথা জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যৌথ নদী কমিশন রয়েছে এবং গঙ্গাসহ নদী ও পানিবণ্টন-সংক্রান্ত সব বিষয় কমিশনের অংশ হিসেবে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও চলমান রয়েছে।’

ভারতের এই বক্তব্য এসেছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা জানানোর পর। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আয়োজিত ‘কল্লোলিনী: এ রিভার ডায়ালগ ২০২৬’ অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছিলেন, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ যাতে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সে নিশ্চয়তা রেখে নতুন চুক্তি প্রণয়নে জেআরসি কাজ করছে।

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ভাটির দেশ হিসেবে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রয়োজন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে বন্যা, কৃষি ও অর্থনীতিতে ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছরের একটি চুক্তিতে সই করে। ফারাক্কা পয়েন্টে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানির প্রবাহ কীভাবে দুই দেশের মধ্যে বণ্টন হবে, মূলত সেই বিষয়টি চুক্তির আওতাভুক্ত।

নতুন চুক্তির প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি প্রতিনিধি দল গঠন করেছে। গত আগস্টে সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, নতুন চুক্তি প্রণয়নের প্রস্তুতির বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।